পুবের কলম  ওয়েবডেস্ক :

ভারতে  নিযুক্ত  মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মন্তব্য  করেছেন যে, “রাত যত গড়ায়,  ভারতের  টিভি  চ্যানেলের অনুষ্ঠানগুলো ততই উদ্ভট হয়ে ওঠে এবং ভারতীয় চ্যানেলগুলোতে প্রচারিত কিছু খবর আমেরিকার ভুয়ো খবরের সমস্যাকেও ছাড়িয়ে যায়।
নয়াদিল্লিতে একটি আর্থিক সংবাদপত্রের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গোর বক্তব্য রাখছিলেন।
তিনি বললেন, বাড়ি ফিরে ভারতীয় টিভির সংবাদ অনুষ্ঠানগুলো দেখতে আমার খুব ভাল লাগে। যত রাত হয়, অনুষ্ঠানগুলো ততই উদ্ভট হয়ে ওঠে।সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানে আটজন লোক তর্ক করছে। রাত ১০টায় ১২ জন লোক একসঙ্গে কথা বলছে এবং আপনি তাদের কারোর কথাই ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছেন না।”
গোর বলেছেন, তিনি প্রথমে বিশ্বাস করতেন যে  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভুল তথ্য নিয়ে একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে, কিন্তু ভারতীয় টেলিভিশন তাঁকে অবাক করেছে।


তিনি বলেন, “আমি ভাবতাম আমেরিকায় আমাদের দেশে ভুয়ো  খবরের সমস্যা আছে,” । “কিন্তু এখানে যেসব খবর প্রকাশিত হয়, তার কিছু কিছু একেবারেই সত্যি নয়।”
গোরের মন্তব্যের  প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়ার বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী। তাঁদের মধ্যে একজন বলেছেন যে, “ভারতীয় গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ” “সস্তা আন্তর্জাতিক বিনোদনে” পরিণত হয়েছে।
জি৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠকের অস্বাভাবিক নেপথ্য ঘটনা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত এক শ্লেষাত্মক মন্তব্য করে বলেন যে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোন প্রশ্ন ছাড়াই গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার চেয়েছিল।
গোর বলেন, বৈঠকের আগেই ট্রাম্পকে অনুরোধটি জানানো হয়েছিল, যার জবাবে তিনি বলেছিলেন ‘অবশ্যই, কোন সমস্যা নেই’। কিন্তু মোদি ও ট্রাম্পের প্রাথমিক সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার পরপরই পরিকল্পনাটি বদলে যায় এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ক্যামেরার দিকে ফিরে জিজ্ঞাসা করেন: “কোন প্রশ্ন আছে?

“আর তাতেই সবকিছুর দরজা খুলে গেল,” গোর বললেন, স্মরণ করে যে কীভাবে সেই আলাপচারিতা শেষ পর্যন্ত ৪৫ মিনিটের একটি সংবাদ সম্মেলনে পরিণত হয়েছিল।
গোর স্মরণ করে বলেন,“আমরা নেপথ্যে, মঞ্চের পেছনে ছিলাম এবং এক পর্যায়ে সেখানে শুধু প্রেসিডেন্ট আর আমিই ছিলাম । ”  তিনি জানান, ট্রাম্প তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন যে বৈঠকে ভারতীয় পক্ষ কী বিষয় উত্থাপন করতে পারে এবং তাদের কোন নির্দিষ্ট অনুরোধ আছে কি না।
গোর বলেছেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গণমাধ্যমের উপস্থিতি চাইলেও কোন প্রশ্ন না করাই শ্রেয় মনে করেছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, “আমি রাষ্ট্রপতিকে বলেছিলাম, ভারতীয়রা কোন প্রশ্ন পছন্দ করে না। তিনি বললেন, অবশ্যই, কোনো সমস্যা নেই।” এর ফলস্বরূপ পরে ৪৫ মিনিটের একটি সংবাদিক  সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সিজেপি-র সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস প্রশ্ন তুলেছেন এবং সরকারকে নিশ্চিত করতে বলেছেন যে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মোদী সরকারের কোনো ঊর্ধ্বতন মন্ত্রীকে ফোন করে রিপাবলিক টিভির এডিটর-ইন-চিফ অর্ণব গোস্বামীকে সংযত করতে বলেছিলেন কি না। অর্ণব গোস্বামী একটি প্রাইম-টাইম শো-তে ‘ডিপ স্টেট আমেরিকা’-র সঙ্গে সিজেপি-র যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছিলেন।
দাস দাবি করেন, পরের দিন সকালের মধ্যেই অনুষ্ঠানটি এবং এর ক্লিপগুলো মুছে ফেলা হয়েছিল। তিনি সরকারকে স্পষ্ট করতে বলেন যে কথিত ফোনকলটি আদৌ হয়েছিল কিনা এবং যদি হয়ে থাকে, তবে গোর কোন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি গোস্বামীকেও চ্যালেঞ্জ জানান যে তিনি “আমেরিকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত” হচ্ছেন কিনা, তার জবাব দিতে হবে ।
"আমেরিকা তাকে নিয়ন্ত্রণ করছে কি না, তারও জবাব দেওয়া উচিত অর্ণবের। আমাদের বলো অর্ণব, জাতি জানতে চায়!" তার এক্স পোস্টে এমনটাই বলা হয়েছে।