পুবের কলম, নয়াদিল্লি: বেঙ্গালুরুতে ‘অবৈধ অভিবাসী’ শনাক্ত করার নামে পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানে মূলত বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের নিশানা করা হয়েছে। তাঁদের অধিকাংশই মুসলিম বলে দাবি করেছে নাগরিক অধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলির একটি জোট। ২২ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে পুলিশের বিরুদ্ধে নির্বিচারে আটক, নথি যাচাই, শারীরিক নির্যাতন এবং পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষকে সন্দেহ করার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নাগরিক স্বাধীনতা ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলির ওই জোটের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৮ আগস্ট বেঙ্গালুরু পুলিশ সন্দেহভাজন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতে ‘নথি যাচাই অভিযান’ শুরু করে। প্রায় ১০-১২টি থানার পুলিশ বিভিন্ন শ্রমিক কলোনি ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে অভিযান চালায়।
অভিযোগ, শত শত বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিককে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রেখে তাঁদের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দেখাতে বলা হয়। অভিযানে পশ্চিমবঙ্গ ও অসম থেকে আসা শ্রমিকদের পাশাপাশি আবর্জনা সংগ্রাহক, নির্মাণশ্রমিক, অটোরিকশাচালক, পথবিক্রেতা, খাবার সরবরাহকারী এবং গৃহকর্মীরাও ছিলেন। মহিলা, শিশু ও প্রবীণদেরও আটক করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। এমনকি আধার ও প্যান কার্ড দেখানোর পরও অনেককে পুলিশ গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পারাপ্পানা অগ্রহারা এলাকায় ৪০০-র বেশি এবং হেব্বাগোডিতে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল।
পুলিশের বিরুদ্ধে মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে কলের তথ্য, বার্তা ও ছবির সংগ্রহ পরীক্ষা এবং কয়েকজনের শারীরিক পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কয়েকজন শ্রমিক পুলিশের মারধরে আহত হওয়ার অভিযোগ জানিয়েছেন। পুলিশের দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনগুলি। এক পুলিশ আধিকারিকের দাবি, ১,৯০৯ জনের যাচাই করে ১৫ জনকে বাংলাদেশি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। পরদিন পুলিশ কমিশনার জানান, ২,৯০০ জনকে যাচাই এবং ১০৫ জনকে সন্দেহভাজন বিদেশি হিসেবে আটক করা হয়েছে। অধিকার সংগঠনগুলির দাবি, শুধু বাংলা ভাষায় কথা বলা, নির্দিষ্ট রাজ্য থেকে আসা, পরিযায়ী শ্রমিক হওয়া বা বস্তিতে বসবাস করা কোনও ব্যক্তিকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে সন্দেহ করার আইনি ভিত্তি হতে পারে না। প্রতিবেদনে সংবিধানের ১৪, ২১ ও ২২ নম্বর অনুচ্ছেদের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ রায়ের উল্লেখ করা হয়েছে।আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের নাগরিকদের শনাক্ত ও প্রত্যাবাসনের জন্য বিশেষ বাহিনী গঠনের কথা থাকলেও, ওই নির্দেশ ভারতীয় নাগরিকদের শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে আটক করার ক্ষমতা দেয় না বলেও দাবি করেছে সংগঠনগুলি। ঘটনার স্বাধীন তদন্ত, ভাষা, ধর্ম, চেহারা, পেশা বা বসবাসের জায়গার ভিত্তিতে আটক বন্ধ এবং অভিযানের আইনি নির্দেশিকা প্রকাশের দাবি জানিয়েছে তারা। তাদের বক্তব্য, “রাষ্ট্র অভিবাসন আইন প্রয়োগ করতে পারে, কিন্তু পক্ষপাতকে অভিবাসন আইন হিসেবে প্রয়োগ করতে পারে না।”