পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: চেন্নাইয়ের নিকটে পরান্দুরে প্রস্তাবিত গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছে তামিলনাড়ুর নয়া ক্ষমতাসীন দল তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে)। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় এবং সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে (ডিএমকে)-র মধ্যে রাজনৈতিক তর্কাযুদ্ধ চরম আকার ধারণ করেছে। রাজধানী চেন্নাই থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে কাঞ্চীপুরম জেলার পরান্দুরে বহুমুখী ফসলি জমি রক্ষা ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার দাবিতে স্থানীয় কৃষকরা এতদিন ধরে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। নির্বাচনে জয়ের আগেই অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বিজয় পরান্দুর বিমানবন্দর বিরোধী আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

ক্ষমতায় এসেই সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তিনি প্রকল্পটিকে পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করলেন।
 
প্রকল্প বাতিলের ঘোষণা দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় তাঁর ২০২৪ সালের অক্টোবরে বিক্রমাবান্দির জনসভার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, "শিল্পের উন্নয়নের জন্য বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না, তবে কৃষকদের কল্যাণ ও রুটিরুজি কেড়ে নিয়ে কোনো প্রকল্প হতে পারে না। জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতেই এই সরকার পরান্দুর বিমানবন্দর প্রতিষ্ঠার সমস্ত কার্যক্রম বাতিল করছে।
" উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিলে অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক পরান্দুরে গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরির জন্য নীতিগত অনুমোদন দিয়েছিল। কিন্তু বিজয় সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই জানায়, বিমানবন্দরের বিকল্প স্থান পর্যালোচনা করা হচ্ছে যাতে জলাশয় ও উর্বর কৃষি জমি রক্ষা করা যায়।
 
বিজয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের নেতৃত্বাধীন ডিএমকে। পরান্দুর প্রকল্প সম্পর্কিত নথিপত্র নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলে ডিএমকে প্রবীণ নেতা দুরাইমুরুগন নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে খোলা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দুরাইমুরুগন বলেন, মুখ্যমন্ত্রী যদি এক সপ্তাহের মধ্যে ডিএমকে সরকারের আমলের সমস্ত ফাইল জনসমক্ষে প্রকাশ না করেন, তবে বিধানসভায় তাঁর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনা হবে। ডিএমকে নেতৃত্বের দাবি, কোনো প্রকার অনিয়ম ছাড়াই ওই প্রকল্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতেই নতুন সরকার বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।