পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও পাশাপাশি সৌর প্যানেল বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করল পশ্চিমবঙ্গ বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি লিমিটেড। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে চলতি আর্থিক বছরে রাজ্যের প্রায় ২ লক্ষ বাড়িতে সৌর প্যানেল বসানোর লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে প্রশাসন। একই সঙ্গে সমস্ত সরকারি অফিসকেও ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। সৌরশক্তির উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর: মুফত বিজলি যোজনা’-র আওতায় বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ চালু হয়েছে রাজ্যে।

এই প্রকল্পকে সামনে রেখে পরিবেশ দূষণ কমানোর জন্য ৭৮ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি ভরতুকি দেওয়া হচ্ছে। এর সঙ্গে সৌর প্যানেল বসানোর খরচের ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি ব্যাঙ্ক থেকে কম সুদে লোনের সুবিধেও রয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যেই প্যানেল বসানোর প্রাথমিক খরচের টাকা হাতে চলে আসবে এবং পরবর্তী সময়ে বিনামূল্যে বা নামমাত্র খরচে বিদ্যুৎ মিলবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর। 
বিদ্যুৎ দফতর এবং অপ্রচলিত ও নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎস বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এই প্রকল্প রূপায়ণের কাজ জোরকদমে চলছে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে দফতরের এক আধিকারিক জানান, সাধারণ মানুষের বাড়ির ছাদে সৌরবিদ্যুৎ তৈরি করে বাড়ির বিদ্যুৎ বিলের বোঝা কমানো।
সরকারি দফতরে বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় করা। এই উদ্দেশ্যে বড় সরকারি ভবন, মহকুমা ও জেলা হাসপাতাল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সরাসরি গ্রিড সংযোগ যুক্ত ‘সোলার পিভি পাওয়ার প্ল্যান্ট’ স্থাপন করা হবে। 
সরকারের এই পরিকল্পনা প্রসঙ্গে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক তড়িৎ রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, ‘রাজ্যের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। ২ লক্ষ বাড়ি ও সরকারি ভবনে সৌর প্যানেল বসলে কার্বন নির্গমন অনেকটাই কমবে।’ তবে শুধু প্যানেল বসানোই নয়, প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত জরুরি বলেও জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, রেলের যাত্রীবাহী কোচে এবার সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। উত্তর-মধ্য রেলের প্রয়াগরাজ ডিভিশনে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হয়েছে সোলার-অ্যাসিস্টেড প্যাসেঞ্জার কোচ।  আগামী দিনের ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে সৌর বিদ্যুৎ বিশেষজ্ঞ সে' জাহাঙ্গীর আলম জানান, আগামী দিনের সোলার বা সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়বে। বিদ্যুৎ বন্টন দফতর একাধিক সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে। ইতিমধ্যে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ'ন শিল্প এলাকায় সোলার বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ এবং বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধি আটকানো সম্ভব হবে।