পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নেপালের প্রলয়করী হড়পা বানের প্রভাব এবার আছড়ে পড়ল ভারতেও। সূত্রের খবর, বিহার-নেপাল সীমান্তের রসুয়াগড়ি এলাকায় কর্মরত শুল্ক দপ্তরের ৩৫ জন কর্মীর মধ্যে ১৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন, যাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নেপালের এই ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখনও পর্যন্ত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পাশাপাশি অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রতিবেশী দেশের এই পরিস্থিতির জেরে ভারতের বিহার ও উত্তরপ্রদেশে একাধিক নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুই রাজ্যেই প্রশাসনের তরফ থেকে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। তিব্বত থেকে নেপাল হয়ে ভারতে প্রবেশ করা গণ্ডক (নেপালে নারায়ণী নামে পরিচিত) এবং কোশী নদীর জলস্তর হু হু করে বাড়ছে। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, গত কয়েক ঘণ্টায় নেপালের দিক থেকে ৮৬ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে এবং আগামীতে এই মাত্রা আরও বাড়তে পারে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে এবং বিপজ্জনক এলাকা থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।

উদ্ভূত এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কেন্দ্র সর্বতোভাবে বিহারকে সাহায্য করবে বলে তিনি আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। অন্যদিকে, নদীর জলস্তর বৃদ্ধির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করে প্রশাসনকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন।