পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা, মধ্যরাতে অরবিন্দ ভবনে আগুন কিংবা গেটে এবিভিপি-র তাণ্ডবের মতো ঘটনাগুলি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, যাদবপুরে কিছুই হয়নি এবং সেখানে পড়াশোনা স্বাভাবিকভাবেই চলছে। একটি নির্দিষ্ট সংবাদমাধ্যম অযথাই এই বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
হামলার ঘটনা অস্বীকার করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্টস হস্টেলে দেশবিরোধী কাজকর্ম চলছে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে আর্টস হস্টেলের কিছু ভিডিও এসেছে, যেখানে মাওবাদী নেতা কিষেণজীর সমর্থনে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভিডিওগুলি উপাচার্যকে পাঠিয়ে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং দেশের স্বার্থকে সবার উপরে রাখতে হবে। মাদ্রাসাসহ সর্বত্র 'বন্দে মাতরম' সম্পূর্ণ গাইতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি আগামী ২৮ তারিখ রাজ্য জুড়ে চার হাজার রাখিবন্ধন কর্মসূচি পালনের কথাও তিনি ঘোষণা করেন।আরও পড়ুন:
এদিনের বৈঠকে সরকারের দুটি বড় পদক্ষেপের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী এখন থেকে রাজ্য সরকার জেলাশাসকদের মাধ্যমে সিএএ-র শুনানি ও সংশাপত্র দেওয়ার কাজ করতে পারবে। এই অধিকার দেওয়ার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ধন্যবাদ জানান। এছাড়াও, রাজ্যে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট বা পুলিশকে আক্রমণ করলে কড়া শাস্তির বিধান চালু হয়েছে। রাজ্যপাল 'দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেনটেনেন্স অব পাবলিক অর্ডার সংশোধনী আইন'-এর একটি অংশে সই করায় তা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কার্যকর করেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর বা থানা জ্বালালে অভিযুক্তদের থেকে সুদ-সহ তিনগুণ ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। তবে গুন্ডা সন্দেহে বিনা বিচারে বারো মাস আটকে রাখার যে অংশটি রয়েছে, তা এখনও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।