পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, কমছে তরুণ প্রজন্ম। আর তারই প্রভাব এবার জার্মানির সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। বয়স্কদের পেনশন, অসুস্থদের চিকিৎসা ও পরিচর্যায় বিপুল অর্থ খরচ হওয়ায় দেশটির সামাজিক ব্যয়ের পরিমাণ পৌঁছে গিয়েছে রেকর্ড উচ্চতায়।
আরও পড়ুন:
জার্মানির অর্থনৈতিক গবেষণা সংস্থা আইফো ইনস্টিটিউট-এর নতুন বিশ্লেষণে এই চিত্র উঠে এসেছে। গত সোমবার, ২৪ আগস্ট প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯২ সালের পর থেকে জার্মানির সামাজিক খরচ যতটা বেড়েছে, তার প্রায় ৮০ শতাংশই বয়স্ক মানুষ ও অসুস্থদের জন্য ব্যয় হয়েছে।
আরও পড়ুন:
২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জার্মানির সামাজিক ব্যয় বাস্তব হিসাবে ১১.৫ শতাংশ বা ১০৪ বিলিয়ন ইউরো বেড়েছে। একই সময়ে দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের তুলনায় সামাজিক ব্যয়ের অংশ ২৯.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। এটিই এখনও পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
আরও পড়ুন:
আইফো ইনস্টিটিউটের গবেষক এমিলি হোয়েসলিঙ্গার বলেন, দেশের সামাজিক ব্যয় অর্থনীতির মোট আকারের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে। দুর্বল অর্থনৈতিক বৃদ্ধিও এই চাপ বাড়াচ্ছে।
জার্মানিতে সামাজিক ব্যয়ের মধ্যে বয়স্কদের পেনশন, স্বাস্থ্যবিমা, দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যা, বেকার ভাতা, পরিবার ও শিশুদের সহায়তা এবং কম আয়ের মানুষের আবাসন সহায়তা রয়েছে। জার্মানির শ্রম ও সামাজিক মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে সামাজিক খাতে মোট ১.৩৪৫ ট্রিলিয়ন ইউরো খরচ হয়েছিল, যা দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রায় ৩১.২ শতাংশ।আরও পড়ুন:
সমস্যার মূল কারণ জনসংখ্যার কাঠামোয় পরিবর্তন। জার্মানিতে জন্মহার কম থাকায় তরুণের সংখ্যা কমছে, অন্যদিকে মানুষের আয়ু বাড়ায় বয়স্কদের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে গেলেও পেনশন, চিকিৎসা ও পরিচর্যার খরচ বাড়ছে।
অভিবাসনের মাধ্যমে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কিছুটা বাড়ানো গেলেও দীর্ঘমেয়াদে শুধু তার উপর নির্ভর করে এই সমস্যা সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।