পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল সীমান্ত সমস্যা এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলএসি) স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে বর্তমানে চিন সফরে রয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বেজিংয়ে চিনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে মূলত দুই দেশের সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং পারস্পরিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ভারত ও চিনের মধ্যে ৩৪৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে।
এই সমস্যা মেটানোর উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালে দুই দেশের মধ্যে ‘বিশেষ প্রতিনিধি’ স্তরের আলোচনা শুরু হয়। মঙ্গলবার ২৫তম দফার এই বিশেষ প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের ঠিক আগেই ডোভাল চিনা ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। চিনে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই বৈঠকের কথা জানানো হয়েছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রক এই আলোচনাকে গঠনমূলক এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।আরও পড়ুন:
ডোভালের এই চিন সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশের স্থানীয় বাসিন্দারা চিনা আগ্রাসনের অভিযোগ তুলে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে, ভারতও কড়া অবস্থান নিয়ে চলতি মাসেই একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক এবং সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তরফে প্রকাশিত ওই মানচিত্রে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা সংলগ্ন তিব্বতের ২৭টি জায়গার নতুন নামকরণ করা হয়েছে।
এই রাজনৈতিক ডামাডোলের মাঝেই ডোভালের বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।আরও পড়ুন:
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই সফরের নেপথ্যে আরও একটি বড় কারণ রয়েছে। আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ব্রিকস’ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। সেখানে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উপস্থিত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি, তবে ওই সম্মেলনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে জিনপিংয়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, সেই মেগা বৈঠকের আগে পরিবেশ অনুকূল করতে এবং কূটনৈতিক ভিত প্রস্তুত করতেই ডোভাল এই বেজিং সফর সারছেন।