মায়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে এবং রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে দেশটির সামরিক জান্তা, গণতন্ত্রপন্থী শক্তি ও বিভিন্ন সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠীর সংঘাতে এক লক্ষেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করতে সামরিক জান্তা ব্যাপক নজরদারি চালাচ্ছে এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে।

বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে বিমান হামলা, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া এবং মানুষকে জোর করে বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে।
এর পাশাপাশি অবৈধ খনিজ উত্তোলন, মাদক উৎপাদন, মানবপাচার এবং অনলাইনভিত্তিক প্রতারণাকেন্দ্রের বিস্তার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক মায়ানমারের পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ ও নির্মমতার যে চিত্র প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, বহুজাতিক সংস্থা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মায়ানমারের পরিস্থিতিতে নিজেদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকেই মায়ানমারে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয়েছে। এরপর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে জান্তাবিরোধী সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।