উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়: একসময় গভীর সবুজে ঘেরা, নিরিবিলি পরিবেশের কারণে ধীরে ধীরে পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছিল নিউ বকখালিরজঙ্গল। কিন্তু দীর্ঘদিনের নদীভাঙনে সেই সৌন্দর্য এখন বিপন্ন। তীব্র ভাঙনের কারণে ক্রমশ সরু হয়ে আসছে জঙ্গলের পরিধি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নিউ বকখালির অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।সম্প্রতি নিউ বকখালি এলাকা ঘুরে দেখেছেন কাকদ্বীপের বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা ও।
এলাকা পরিদর্শনের পর ভাঙন রুখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।স্থানীয়দের দাবি, আগে নিউ বকখালির জঙ্গল অনেকটাই গভীর ছিল। কিন্তু বছরের পর বছর নদী ভাঙনের ফলে জঙ্গলের একটা বড় অংশ নদীগর্ভে চলে গিয়েছে।বর্তমানে জঙ্গল অনেকটাই পাতলা হয়েএসেছে। ভাঙনের তীব্রতা দ্রুত না কমানো গেলে আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।নিউ বকখালির এই নির্জন ও কোলাহলহীন পরিবেশ ধীরে ধীরে পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছিল। প্রকৃতির টানে অনেকেই এখানে আসতেন। কিন্তু নদীভাঙন সেই সম্ভাবনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভাঙন নিয়ে বারবার প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী কোন ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, শুধু অস্থায়ীভাবে ভাঙন সামাল দিলে হবে না, জঙ্গল ও সংলগ্ন এলাকা রক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা প্রয়োজন।এবার স্থানীয় বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী নিজে এলাকা পরিদর্শন করায় আশাবাদী স্থানীয়রা। তাঁদের আশা, এবার হয়তো নিউ বকখালির ভাঙন সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।স্থানীয়দের কথায়, এই জায়গাটি যদি নদী গর্ভে হারিয়ে যায়, তাহলে শুধু পরিবেশের ক্ষতিই হবে না, ভবিষ্যতে পর্যটকরাও নিউ বকখালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হবেন।তাই জঙ্গলটিকে রক্ষা করার দায়িত্ব সরকারেরই বলে মনে করছেন তাঁরা।নিউ বকখালি নামখানা স্টেশনের আগে উকিলের হাট স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এই এলাকার পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়ছিল। কিন্তু তার আগেই নদীভাঙন বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।এ বিষয়ে কাকদ্বীপের বিধায়ক তথা সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা বলেন, “আমি সম্প্রতি এলাকাটি ঘুরে দেখেছি। দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গেও কথা বলেছি। কীভাবে ভাঙন রোধ করা যায়, তা নিয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।”এখন দেখার, সরকারি উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং ভাঙনের হাত থেকে নিউ বকখালির এই সবুজ জঙ্গলকে কতটা রক্ষা করা সম্ভব হয়।