কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনে একাধিক অসঙ্গতি এবং রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ তুলল সিপিআই(এম)। মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার সর্বদলীয় বৈঠকে দলের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন তোলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে আলোচনা না করে এবং কোনও পাবলিক নোটিফিকেশন জারি না করেই কী ভাবে ডিলিমিটেশনের কাজ সম্পন্ন করা হল।
ডিলিমিটেশনের পর কলকাতা পুরসভার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ২০৯ হয়েছে। এ বিষয়ে রাজ্য বিধানসভায় বিলও পাশ হয়েছে।
এই হিসাব নিয়েই প্রশ্ন তোলে সিপিআই(এম)। দলের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, ডিলিমিটেশন ভোটারের সংখ্যা নয়, জনসংখ্যার ভিত্তিতে হওয়ার কথা। তাঁদের অভিযোগ, কোথাও মাত্র ৮ হাজার ভোটার থাকা সত্ত্বেও ওয়ার্ড ভাঙা হয়েছে, আবার কোনও কোনও ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ২৮ হাজার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এমনকি কোথাও মাত্র কয়েক ফুট চওড়া রাস্তার দুই পাশে থাকা বাড়িগুলিকেও আলাদা ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
সিপিআই(এম) নেতা সুব্রত দত্তের অভিযোগ, ‘‘রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়েই এই ডিলিমিটেশন করা হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, অনেক জায়গায় ওয়ার্ডের সীমানা অস্বাভাবিক ভাবে তৈরি করা হয়েছে এবং এর ফলে নির্দিষ্ট অংশের ভোটারদের বিভাজনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দলের নেতা কৌস্তুভ চ্যাটার্জি প্রশ্ন তোলেন, ডিলিমিটেশনের আগে কেন সর্বদলীয় বৈঠক করা হল না এবং ২০৯টি ওয়ার্ডের সীমানা নিয়ে কোনও পাবলিক নোটিফিকেশন কেন প্রকাশ করা হয়নি। কোন বুথ কোন ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত, তা সাধারণ মানুষ কী ভাবে জানতে পারবেন, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
সিপিআই(এম)-এর দাবি, বরো বা বিধানসভা ভিত্তিক আরও সর্বদলীয় বৈঠক করতে হবে। ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ জানানোর যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, তা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ডিলিমিটেশনের সমস্ত নথির হার্ড কপি রাজনৈতিক দলগুলিকে দেওয়া এবং সংবাদপত্রে বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিও জানিয়েছে দল।