পুবের কলম, চণ্ডীগড়: হরিয়ানার রোহতকের সুনারিয়া জেল থেকে আবারও ২১ দিনের ফার্লোতে বেরিয়ে এলেন ডেরা সাচা সওদা প্রধান গুরমিত রাম রহিম সিং। ধর্ষণের অপরাধে ২০১৭ সালে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর থেকে এটি তাঁর ১৭তম সাময়িক জেলমুক্তি। জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাম রহিম জেল থেকে বের হন। এই ২১ দিনের ফার্লো চলাকালীন তিনি সিরাজ ডেরা সাচা সওদার মূল কার্যালয়ে থাকবেন বলে জানা গেছে। গত ২৬ জুন ৩০ দিনের প্যারোল শেষে জেলে ফেরার দুই মাসের মধ্যেই তিনি ফের মুক্তির অনুমতি পেলেন।

এই নিয়ে টানা তিনবার সিরাজ প্রধান কার্যালয়ে থাকার অনুমতি দেওয়া হলো তাঁকে, যা পূর্বে উত্তরপ্রদেশের বারনাওয়া আশ্রমে সীমাবদ্ধ ছিল।
 
হরিয়ানা গুড কন্ডাক্ট প্রজনার্স টেম্পোরারি রিলিজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, একজন বন্দি বছরে সর্বোচ্চ ১০ সপ্তাহের প্যারোল এবং ৩ সপ্তাহের ফার্লো পেতে পারেন। এই ২১ দিনের ফার্লো মঞ্জুর হওয়ার পর চলতি বছরে তাঁর প্রাপ্য বার্ষিক ছুটির সম্পূর্ণ কোটা শেষ হলো। চলতি বছরেই এর আগে জানুয়ারি মাসে ৪০ দিনের প্যারোল এবং মে মাসে ৩০ দিনের প্যারোল পেয়েছিলেন তিনি। আইনানুসারে, নির্দিষ্ট কোনো জরুরি প্রয়োজনে প্যারোল দেওয়া হলেও, শর্তাবলী ও নির্দিষ্ট মেয়াদ কারাবাস পূরণের পর একজন যোগ্য বন্দিকে ফার্লো প্রদান করা হয়।

 
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে সিবিআই-এর একটি বিশেষ আদালত দুই শিষ্যাকে ধর্ষণের দায়ে রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করে। দুটি ভিন্ন মামলায় তাঁকে ১০ বছর করে মোট ২০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। ওই রায়ের পর হরিয়ানা ও পাঞ্জাবে ব্যাপক হিংসাত্মক ছড়িয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে তিনি জোড়া হত্যাকাণ্ডে দণ্ডিত হন। সাংবাদিক রাম চন্দর ছত্রপতি হত্যাকাণ্ড মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত বন্দি। ডেরা ম্যানেজার রঞ্জিত সিং হত্যা মামলায় তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, ২০২৪ সালের মে মাসে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট তাঁকে ওই মামলা থেকে খালাস দেয়। এদিকে ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত হওয়া সত্ত্বেও রাম রহিমকে বারবার প্যারোল ও ফার্লো দেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক স্তরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।