পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ফেসবুকে সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের সমালোচনা করে পোস্ট করায় এক দলিত যুব নেতার বাড়িতে ব্যাপক তাণ্ডব চালাল আরএসএস ও বজরঙ দলের কর্মীরা। সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ দিল্লির বুকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। আক্রান্ত নেতার নাম রাহুল কিরাদ। তিনি ডিওয়াইএফআই-এর দিল্লি রাজ্য কমিটির কোষাধ্যক্ষ। অভিযোগ, প্রায় দেড়শোর বেশি সঙ্ঘ আশ্রিত দুষ্কৃতী রাহুলের বাড়ি ঘিরে ফেলে তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
'জয় শ্রীরাম' স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি রাহুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে ক্রমাগত অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে তারা।আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলনের কড়া সমালোচনা করে সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্ট করেছিলেন রাহুল। সেখানে তিনি প্রয়াত দলিত নেতা কাঁসিরামের প্রসঙ্গে 'জয় শ্রীরাম' ধ্বনির একটি ব্যাখ্যাও দিয়েছিলেন। হামলাকারীদের দাবি, ওই পোস্টে ভগবান রামকে অপমান করা হয়েছে। তাই অবিলম্বে পোস্টটি মুছে ফেলতে হবে।
এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা অকথ্য গালিগালাজ করছে এবং ওই যুবককে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছে। সেই সময়ে দোতলার বারান্দা থেকে এক মহিলা আক্রমণকারীদের উদ্দেশে প্রশ্ন তোলেন, কীভাবে একই মুখে গালিগালাজ এবং ঈশ্বরের নাম মানায়! প্রায় দু'ঘণ্টা ধরে এই তাণ্ডব চললেও পুলিশ অনেক দেরিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বলে অভিযোগ।আরও পড়ুন:
খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান সিপিআই(এম) এবং ডিওয়াইএফআই-এর দিল্লি রাজ্য নেতৃত্ব। ডিওয়াইএফআই-এর রাজ্য সম্পাদক আমন সৈনি এবং সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় পান্ডের সঙ্গে হামলাকারীদের তীব্র বচসা বাঁধে।
এরপর পুলিশ এসে কয়েকজনকে থানায় নিয়ে যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, তারপরেও বেশ কয়েকজন বজরঙ দল কর্মী পুনরায় ওই বাড়ির সামনে জড়ো হয়। এই পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা এবং হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ডিওয়াইএফআই-এর দিল্লি রাজ্য কমিটি। যুব নেতৃত্বের বক্তব্য, সম্প্রতি দিল্লির সরকারি স্কুলের বেহাল দশার প্রতিবাদে 'স্কুল বাঁচাও আন্দোলনে' সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন রাহুল। সেই আক্রোশ থেকেই সঙ্ঘ পরিবার পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণের পোস্টটিকে ঢাল করে এই হামলা চালিয়েছে। প্রশাসনের কাছে অবিলম্বে রাহুল ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং দোষীদের চিহ্নিত করে কড়া আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।