পুবের কলম, নয়াদিল্লি: ২০২৭ সালের জনগণনায় প্রস্তাবিত জাতগণনার পদ্ধতি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশের অভিযোগ, রাজনৈতিক দল ও রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে কোনও আলোচনা না করেই কেন্দ্র জাতগণনার পদ্ধতি নির্ধারণ করেছে। তাঁর দাবি, ১৪ আগস্ট জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে মোট ৪০টি প্রশ্নের মধ্যে মাত্র একটি প্রশ্ন জাত সংক্রান্ত। ফলে এটিকে প্রকৃত অর্থে পূর্ণাঙ্গ জাতগণনা বলা যায় না।
দিল্লিতে দলীয় দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে রমেশ বলেন, গত তিন বছর ধরে কংগ্রেস জাতগণনার দাবি জানিয়ে আসছে। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একাধিক চিঠি লিখলেও কোনও জবাব মেলেনি বলে তাঁর অভিযোগ।
রমেশের অভিযোগ, জাতগণনা কীভাবে করা হবে, সে বিষয়ে কেন্দ্র এখনও রাজনৈতিক দল বা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে আলোচনা করেনি। ১৪ আগস্টের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪০টি প্রশ্ন করা হবে এবং তার দশ নম্বর প্রশ্নটি জাত সংক্রান্ত। এই তথ্যের ভিত্তিতেই জাতগণনা হবে বলে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবিত পদ্ধতিকে ‘প্রতারণা’ ও ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন রমেশ। তাঁর দাবি, সরকার যদি সত্যিই সৎভাবে জাতগণনা করতে চায়, তাহলে বিহার ও তেলঙ্গানায় পরিচালিত জাতভিত্তিক সমীক্ষার মডেল অনুসরণ করা উচিত। তাঁর কথায়, এখনও প্রক্রিয়ার শুরুর পর্যায় চলছে এবং আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে পদ্ধতিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন করা সম্ভব।
রমেশ আরও বলেন, জাতগণনার আগে জাতগুলির একটি নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন। ২০২১ সালে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের দেওয়া একটি হলফনামার উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেখানে বলা হয়েছিল জাতগণনা করতে হলে প্রথমে জাতগুলির তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। তাঁর মতে, বিহার ২০১৫ সালে এবং তেলঙ্গানা তাদের সমীক্ষার আগে জাতগুলির তালিকা তৈরি করেছিল।
কংগ্রেসের দাবি, দেশে প্রায় ৪২০০টি জাত রয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্যে তাদের পৃথক তালিকা রয়েছে। সংরক্ষণের ব্যবস্থাও এই তালিকাগুলির ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। তাই শুধুমাত্র একটি প্রশ্নের মাধ্যমে এত বৈচিত্র্যময় জাতগত বাস্তবতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া সম্ভব নয় বলে রমেশের বক্তব্য। প্রধানমন্ত্রী মোদির অবস্থানের পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। রমেশের দাবি, ২০২৪ সালে জাতগণনার দাবিদারদের ‘আরবান নকশাল’ বলে আক্রমণ করা হয়েছিল। পরের বছর কেন্দ্রই ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতগণনা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।
এখন কংগ্রেস চাইছে, বর্তমান পদ্ধতি বাতিল করে বিহার ও তেলঙ্গানার আদলে নতুন করে জাতগণনার প্রক্রিয়া শুরু করা হোক। রমেশের বক্তব্য, কেন্দ্র এখনও চাইলে প্রক্রিয়াটি সংশোধন করে একটি গ্রহণযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ জাতগণনা করতে পারে।