পুবের কলম, লখনউ: উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজ জেলার কাঠৌলি গ্রামে একটি রবিবারিক প্রার্থনা সভায় অবৈধ ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ তুলে হামলা চালাল একদল হিন্দুত্ববাদী। ঘটনার পর এলাকা জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে একটি অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীকে আটক করেছে পুলিশ। 'ইউসিএ নিউজ'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট কাঠৌলি গ্রামে ওই প্রার্থনা সভা চলাকালীন একদল হিন্দুত্ববাদী জোরপূর্বক সেখানে ঢুকে পড়ে। প্রার্থনায় বাধা দেওয়ার পাশাপাশি উপস্থিত পুণ্যার্থীদের লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ।

হামলায় যুক্তদের অনেকেই নিজেদের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ, বজরং দল এবং দুর্গা বাহিনীর সদস্য বলে দাবি করেছেন। পরবর্তীতে গ্রামবাসীর দায়ের করা ধর্মান্তরবিরোধী অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ওই ব্যক্তিদের আটক করে।
 
কাঠৌলির পাশাপাশি প্রয়াগরাজের ফুলপুর থানা এলাকার হরিভানপুর গ্রামেও একই ধরনের ঘটনা সামনে এসেছে। সেখানেও ভিএইচপি ও বজরং দলের এক কর্মকর্তার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীকে গ্রেফতার করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে একটি 'সামাজিক আলোচনার' নামে গণ-ধর্মান্তরকরণের অভিযোগ আনা হয়।
উত্তরপ্রদেশ ধর্মান্তরবিরোধী আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ ভিত্তিক দাতব্য সংস্থা 'ইউনিটি ইন কম্প্যাশন'-এর সাধারণ সম্পাদক মীনাক্ষী সিং প্রশাসনের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "প্রশাসন ও পুলিশ এই দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে, অথচ যারা ভুক্তভোগী তাদেরকেই অভিযুক্ত করে মামলা চালানো হচ্ছে।"
 
অন্যদিকে, 'পারসিকিউশন রিলিফ'-এর প্রতিষ্ঠাতা শিবু থমাস জানান, কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে কোনো শান্তিপূর্ণ প্রার্থনা সভা পণ্ড করা উচিত নয় এবং আইনের অধীনে ধর্মীয় স্বাধীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ২০২১ সালে উত্তরপ্রদেশে ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রণয়ন করা হয় এবং ২০২৪ সালে এটি আরও কঠোর করে কিছু ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। তবে খ্রিষ্টান সংগঠনগুলোর দাবি, কোনো প্রমাণ ছাড়াই এই আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।