ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্তকে সামরিক পরাজয়ের স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখছে তেহরান। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর -এর মুখপাত্র সরদার মোহেবি দাবি করেছেন, সামরিক অভিযানে কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ার পরই যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক যুদ্ধের পথে হাঁটছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়িও জানিয়েছেন, আঞ্চলিক দেশগুলিই নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও স্থান থাকবে না।

ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফায়েক জেইদানের সঙ্গে বৈঠকে রেজায়ি ইরান-ইরাকের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং ইরানবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

এদিকে ইরান ও তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, একতরফা ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞার তীব্র বিরোধিতা করে বেইজিং।

ইরানের সঙ্গে বৈধ বাণিজ্য ও সহযোগিতায় হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না বলেও জানায় চীন।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত সোমবার নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে সতর্ক করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোকেও বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। কাতারও এই নিষেধাজ্ঞাকে একতরফা বলে মন্তব্য করেছে এবং কূটনৈতিক ও মধ্যস্থতার মাধ্যমে সংকট সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

এরই মধ্যে আইআরজিসির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবস্থান ও তাঁদের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য দিতে সর্বোচ্চ এক কোটি ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোর ওপরও মার্কিন চাপ আরও বাড়ল।