নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত একাধিক দাবিতে মঙ্গলবার পটনায় আন্দোলন আরও তীব্র করার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলি। গান্ধী ময়দান থেকে বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে মিছিলের ডাক দিয়েছে অল-বিহার স্টুডেন্ট ইউনিয়ন। গত এক সপ্তাহ ধরে গার্দানিবাগে অবস্থান-বিক্ষোভের পর এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। সকাল ১১টায় মিছিল শুরু হয়ে ডাকবাংলো, প্ল্যানেটোরিয়াম এবং জেপি গোলাম্বর হয়ে এগোনোর কথা। রেভলিউশনারি ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন, এসএসএআই, ছাত্র যুব সংঘর্ষ মোর্চা-সহ ১৪টি ছাত্র ও যুব সংগঠন এই কর্মসূচিকে সমর্থন করেছে।
বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দলও আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের আশপাশে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকায় পুলিশ জেপি গোলাম্বরের পর আন্দোলনকারীদের আটকে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। মিছিলের সম্ভাব্য পথে গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে পুলিশের সঙ্গে পড়ুয়াদের খণ্ডযুদ্ধের দৃশ্যও দেখা গেছে।ছাত্রদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে একটি বিপিএসসি পরীক্ষা বাতিল করে ফের পরীক্ষা নেওয়া এবং পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ার উচ্চ আদালতের বিচারপতির তত্ত্বাবধানে সিবিআই তদন্ত। পাশাপাশি গ্রন্থাগারিক নিয়োগে পরিবর্তন, বিএসএসসি নিয়োগে চুক্তিভিত্তিক চাকরির অভিজ্ঞতার জন্য অতিরিক্ত সুবিধা প্রত্যাহার এবং একটি ইনস্পেক্টর নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবি উঠেছে। সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের আগে যোগ্যতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনগুলি। তাঁদের বৃহত্তর দাবির মধ্যে রয়েছে বিহারের সমস্ত নিয়োগ পরীক্ষার জন্য বার্ষিক ক্যালেন্ডার, সর্বোচ্চ নিয়োগের বয়সসীমা ৪৫ বছর করা এবং ডোমিসাইল নীতির আওতায় স্থানীয় প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত অগ্রাধিকার। এছাড়াও প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় কারচুপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, চতুর্থ দফার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য একটিমাত্র পরীক্ষা এবং নেগেটিভ মার্কিং তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠনগুলি।