পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার ছাত্র সংঘর্ষের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইউনিভার্সিটি বা বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়। রাখিবন্ধন উৎসব আয়োজনের তহবিল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) এবং তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি) মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দত্তপুকুর থানার পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলে এই অশান্তির সূত্রপাত। এবিভিপির অভিযোগ, কথা বলার নাম করে অরূপ নামের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এমএ প্রথম বর্ষের এক ছাত্রকে হস্টেলে ডেকে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করা হয়।

এই ঘটনায় আলতাফ নামের এক টিএমসিপি সদস্যের নাম উঠে এসেছে। খবর পেয়ে এবিভিপির অন্য ছাত্ররা হস্টেলে পৌঁছলে দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ বেধে যায়। এবিভিপির বারাসত নগর সম্পাদক প্রীতম পাঠকের দাবি, রাখিবন্ধন উৎসবের জন্য উপাচার্য তাদের অনুদানের আবেদনে সই করায় ক্ষুব্ধ হয়ে টিএমসিপি এই হামলা চালিয়েছে। হামলায় ব্লেড ব্যবহার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন, যার জেরে ঘাড় ও গলায় গুরুতর আঘাত নিয়ে তাদের দুই সদস্য হাসপাতালে ভর্তি। টিএমসিপির এই আচরণকে 'জঙ্গিপনা' আখ্যা দিয়ে গেরুয়া ছাত্র সংগঠনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন কার্যকলাপ চলতে থাকলে তাঁরাও ছেড়ে কথা বলবেন না।

অন্যদিকে, তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন হস্টেলের আবাসিক ছাত্র গিয়াস, রহমত ও শরীফরা। নিজেদের সাধারণ ছাত্র বলে দাবি করে তাঁদের পালটা অভিযোগ, এবিভিপির ছেলেরাই জোরপূর্বক হস্টেলে ঢুকে তাঁদের উপর অতর্কিতে হামলা চালিয়েছে, যার ফলে তাঁদের অন্তত ১০-১২ জন ছাত্র আহত হয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজাও। বারাসতের বিজেপি বিধায়ক শংকর চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, টিএমসিপি-র মদতে বহিরাগতরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে এবিভিপির ছাত্রদের উপর হামলা চালিয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে পুলিশের তরফ থেকে উপাচার্যের সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।