পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চিনের তিব্বত থেকে ধেয়ে আসা জলের তোড়ে ভয়াবহ হড়পা বানের মুখে পড়েছে প্রতিবেশী রাষ্ট্র নেপাল। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিলোমিটার দূরে রসুয়া জেলায় ভোটেকোশী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় এই চরম বিপত্তি ঘটে। প্রকৃতির এই রুদ্ররোষে ইতিমধ্যেই ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নেপাল পর্যটন বোর্ডের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ১০৫ জন ভারতীয়-সহ মোট ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন।

আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের সুবিধার্থে নেপালে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের তরফ থেকে বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে।

এই চরম বিপর্যয়ের মুহূর্তে প্রতিবেশী দেশের পাশে দাঁড়িয়েছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহর সঙ্গে ফোনে কথা বলে সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতিমধ্যেই ভারতের তরফ থেকে নেপালে দ্রুত ত্রাণ পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

অন্যদিকে, নেপালের এই ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির জেরে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে ভারতেও। নেপাল থেকে বয়ে আসা গণ্ডক ও কোশীর মতো নদীগুলির জলস্তর অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিহার এবং উত্তরপ্রদেশে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে প্রশাসন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহার প্রশাসন কতটা প্রস্তুত, তা জানতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন, বিপর্যয় সামাল দিতে রাজ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং নদী তীরবর্তী এলাকাগুলি থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও বিহার সরকারকে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রের তরফ থেকে সব ধরনের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।