পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, ধর্ম আলাদা, রক্তের সম্পর্কও নেই। তবু প্রায় ২০ বছর ধরে দুই হিন্দু অনাথ ভাইকে নিজের পাঁচ সন্তানের সঙ্গে মানুষ করেছেন কর্ণাটকের বেলগাভির অবসরপ্রাপ্ত কেএসআরটিসি চালক মেহবুব হাসান নায়কওয়াড়ি ও তাঁর স্ত্রী নূরজাহান। শুধু বড় করে তোলাই নয়, পড়াশোনা করিয়ে স্বাবলম্বী করেছেন তাঁরা। পরে সেই ছেলের বিয়েতে বাবা-মায়ের ভূমিকাও পালন করেছেন এই দম্পতি।

প্রায় ২০ বছর আগে মেহবুবের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শিবানন্দ কডয়্যা পুজেরি ও তাঁর স্ত্রী মারা গেলে তাঁদের দুই ছেলে সোমশেখর ও বসন্ত অনাথ হয়ে পড়ে। তখন সোমশেখরের বয়স চার এবং বসন্তের মাত্র দুই বছর। আত্মীয়দের কেউ দায়িত্ব নিতে এগিয়ে না আসায় মেহবুব ও নূরজাহান দুই শিশুকে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। তাঁদের আগে থেকেই চার ছেলে ও এক মেয়ে ছিল।

তবু দুই ভাইকে কখনও আলাদা করে দেখেননি তাঁরা। সাত সন্তান একই পরিবারের সদস্য হয়ে বড় হয়।

সোমশেখর বিএসসি পাশ করেন, বসন্ত প্রি-ইউনিভার্সিটি শিক্ষা শেষ করেন। পরে দু’জনেই বেলগাভির এয়ুক্স নামে একটি মহাকাশযান যন্ত্রাংশ নির্মাণকারী সংস্থায় চাকরি পান।

তাঁরা নিজেদের হিন্দু ও লিঙ্গায়ত পরিচয় নিয়েই বড় হয়েছেন। পালক বাবা-মা তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের প্রতি সম্মান রেখেছেন।

সোমশেখর বিয়ের বয়সে পৌঁছলে মেহবুব ও নূরজাহান আবারও বাবা-মায়ের ভূমিকা নেন। মহারাষ্ট্রের গড়হিংলজ তালুকের তনওয়াড় গ্রামে গিয়ে তাঁরা কনের সন্ধান করেন। শেষ পর্যন্ত বীরশৈব লিঙ্গায়ত পরিবারের পূনমের সঙ্গে সোমশেখরের বিয়ে ঠিক হয়। বিয়েতেও তাঁরা ছেলের বাবা-মায়ের দায়িত্ব পালন করেন। অনুষ্ঠানে হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই উপস্থিত ছিলেন।