পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ২০২৩ সালে কর্ণাটকে বিপুল জয়ের মাধ্যমে কংগ্রেস সরকার গঠনের পর থেকেই দলীয় অন্দরে নেতৃত্বের প্রশ্নে টানাপোড়েন বারবার সামনে এসেছে। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে জল্পনা কখনও পুরোপুরি থামেনি। দলের একাংশ বিধায়ক বহুদিন ধরেই প্রকাশ্যে ডি কে শিবকুমারের পক্ষে সওয়াল করে আসছেন। তাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাওয়ার কথা জানিয়েছেন। এই আবহেই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া পদ ছাড়তে পারেন বলে গত কয়েকদিন ধরেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তারমধ্যেই বৃহস্পতিবার নিজের সরকারি বাসভবনে মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে প্রাতঃরাশের আয়োজন করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া।
এই বৈঠক ঘিরে বাড়তি কৌতূহল তৈরি হয়েছে কর্ণাটকের রাজনীতিতে।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি দিল্লিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার। আর সেই বৈঠকের পর থেকেই জল্পনা আরও বেড়েছে। কংগ্রেসের অন্দরমহলে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে বলে খবর। কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকার গঠনের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদের সমঝোতা নিয়ে নানা জল্পনা ছিল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময় পর নেতৃত্বে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বহুবার আলোচনা হয়েছে। যদিও কংগ্রেস নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কখনও স্পষ্ট কিছু জানায়নি। তবুও সরকারের মেয়াদের মাঝপথে এসে সেই আলোচনা আবারও নতুন করে সামনে এসেছে।
এদিকে বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন ডি কে শিবকুমার। প্রথমে তাঁর বুধবার বেঙ্গালুরু ফেরার কথা থাকলেও পরে সফরসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়। কাল তাঁর ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ডাকা বৈঠকে তিনিও যোগ দিতে পারেন বলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
গত বছরও একই ধরনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সময় দুই শীর্ষ নেতার উদ্যোগে বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠককে দলীয় অন্দরের মতভেদ মেটানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছিল। এবারও একই ধরনের পরিস্থিতিতে এই প্রাতঃরাশ বৈঠক যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী সতীশ জারকিহোলি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, দল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু ঘোষণা করেনি। ফলে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী বৈঠকে কী বলেন, তার পরেই বিষয়টি অনেকটা পরিষ্কার হতে পারে।
তিনি আরও জানান, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব মুখ্যমন্ত্রীকে কী বার্তা দিয়েছে, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছেও এখনও স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই। তাই বৃহস্পতিবারের বৈঠকের দিকে নজর রয়েছে সবার। মনে করা হচ্ছে, ওই বৈঠকের পর কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীত্ব বদল নিয়ে জল্পনার ছবি অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যাবে।