নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২-তে পৌঁছেছে। এখনও নিখোঁজ অন্তত ৭৫০ জন। তাঁদের মধ্যে ১৩৩ জন ভারতীয়-সহ প্রায় ৪০০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল সরকার। নিখোঁজদের তালিকায় কলকাতার ৩২ জনের একটি কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রীদল এবং তামিলনাড়ুর ৩৭ জন পর্যটকও রয়েছেন।

বুধবার সকালে তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভূমিকম্পের পর তুষারধস ও হিমবাহ ভেঙে ভয়াবহ হড়পা বান নামে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট নাগাদ সীমান্ত এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়। এরপরই তুষারধসের জেরে ভোটেকোশী নদীতে প্রবল জলস্রোত নেমে আসে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের রাসুয়া জেলার রাসুয়াগাঢ়ি এলাকা।

নদীর দু’পারে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের বসতি থাকা এই জনপদের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জলের তোড়ে ঘরবাড়ি, সেতু এবং যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু এলাকা কালো কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে।

নেপালের সেনাবাহিনী যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে।

তবে দুর্গত এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় নিখোঁজদের অবস্থান সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার দায়িত্বে থাকা পর্যটন সংস্থাগুলিও বহু যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছে না।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, ৪.৪ মাত্রার ভূমিকম্পের অভিঘাতে তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি হিমবাহ ভেঙে যায়। তার ফলে বিপুল পরিমাণ বরফ ও জল নদীর গতিপথে নেমে এসে প্রথমে লেহন্ডে খোলা এবং পরে ভোটেকোশী নদীতে প্রবল স্রোত তৈরি করে। সেই স্রোতই ক্রমে ভয়াবহ আকার ধারণ করে বিস্তীর্ণ জনপদে ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।