পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: পাহাড়ের বুক থেকে আচমকা নেমে এল বরফ, পাথর, কাদা ও জলের ভয়াবহ স্রোত। মুহূর্তে ভেসে গেল বাড়িঘর, সেতু ও রাস্তা। নেপাল-তিব্বত সীমান্তে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের কথা বলা হলেও বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে এখন উঠে আসছে অন্য সম্ভাবনা; বিরাট এক হিমবাহ ধস।
নিউজিল্যান্ডের জিএনএস সায়েন্সের বিজ্ঞানী সাইমন কক্সের মতে, প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতা থেকে হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে উপত্যকায় পড়ে।

বরফের সঙ্গে পাথর, মাটি ও গাছপালা মিশে তৈরি হয় প্রবল ধস। সেই ধ্বংসাবশেষ নদীর পথে নেমে এসে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সমীক্ষা সংস্থাও জানিয়েছে, যে কম্পনকে প্রথমে ভূমিকম্প মনে করা হয়েছিল, তা আসলে হিমবাহ ধস ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ফল। ঘটনাটি প্রায় ৫.২ মাত্রার ভূকম্পন-সদৃশ সংকেত তৈরি করেছিল।

বিপর্যয়ের পর উপগ্রহ চিত্রে দেখা যাচ্ছে, আগে যেখানে ছিল জনবসতি ও স্বাভাবিক নদীপথ, সেখানে এখন বিস্তীর্ণ ধ্বংসস্তূপ। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, হিমবাহের নীচে জমে থাকা জল, বরফ গলা, অতিরিক্ত বর্ষণ এবং পাহাড়ের ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতি; সব মিলিয়েই পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। হিমবাহ-হ্রদ ভেঙে বন্যা হওয়ার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তবে কীভাবে এত বিপুল জল তৈরি হল তা নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। একটি সম্ভাবনা হল, বরফের ধস লেন্দে খোলা নদীর একটি অংশ আটকে দিয়ে সাময়িক হ্রদ তৈরি করেছিল। পরে সেই জলরাশি বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে এসে নীচের দিকে ভয়াবহ বন্যা ডেকে আনে।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ ও পাহাড়ের নীচের চিরহিমায়িত মাটি দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে হিমালয়ের মতো উচ্চভূমিতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই বিপর্যয় শুধু একটি দুর্যোগ নয়; ভবিষ্যতের আরও বড় বিপদের সতর্কবার্তা।