নিউ ইয়র্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতের নিউ ইয়র্ক সফর ঘিরে বিতর্ক তীব্র হয়েছে। শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে তাঁর অনুষ্ঠানের আগে মার্কিন ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) ভাগবতের মার্কিন ভিসা বাতিল এবং ভবিষ্যতে তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে আরএসএসের সদস্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ভারতীয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লক্ষ্যভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা বিবেচনার আহ´ান জানিয়েছে সংস্থাটি।

বুধবার প্রকাশিত বিবৃতিতে ইউএসসিআইআরএফের অভিযোগ, ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও উসকানির ঘটনা ঘটছে। সংস্থাটির ভাইস চেয়ার সিসি হেইল বলেন, ভারতের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ রয়েছে ওয়াশিংটনের সামনে।

তবে এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ভারত। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কয়েক দিন আগেই ইউএসসিআইআরএফকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিষ্ঠান’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর অভিযোগ, সংস্থাটি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিষয়ে ভুল ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছে এবং তাদের নিজস্ব উদ্দেশ্য রয়েছে।

এ দিকে ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভের প্রস্তুতিও চলছে। ‘হিন্দুস ফর হিউম্যান রাইটস’সহ কয়েকটি প্রগতিশীল সংগঠন শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের বাইরে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

সংগঠনটির উপনির্বাহী পরিচালক শ্রব্যা তাদেপল্লি অভিযোগ করেন, ভাগবত হিন্দুদের প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন হিন্দু জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের কারণে সংখ্যালঘুরা সহিংসতা ও বঞ্চনার মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাওয়া ব্যক্তিদের বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে না জড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে ‘হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন’। আশপাশের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং হুমকি বা সন্দেহজনক কিছু দেখলে নিরাপত্তাকর্মী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। অনুষ্ঠানের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা নিয়েও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে আয়োজকদের আলোচনা হয়েছে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানিয়েছেন, তিনি অনুষ্ঠানের সমর্থক নন। তবে এটি বেসরকারি অনুষ্ঠান হওয়ায় তা বাতিল করার ক্ষমতা নগর প্রশাসনের নেই। ফলে অনুষ্ঠান ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্কের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।