পুবের কলম প্রতিবেদক: রাজ্যের সরকারি এবং সরকার অনুমোদিত স্কুলগুলিতে পুনরায় পাশ ফেল চালু করার বিষয়ে ভাবনা শুরু করেছে রাজ্যের শিক্ষা দফতর। সম্প্রতি এক বৈঠকে সিলেবাস কমিটি এবং শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের আলোচনাও হয়েছে। ২০২৮ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যজুড়ে প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি সম্পূর্ণ পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাকাঠামোয় কার্যকর হতে পারে।
শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন জানিয়েছেন, আগের মতো তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে শিক্ষাবিদদের পরামর্শ মেনে ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন আনা হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ শেষের সময়ের স্বল্পতার কারণে এখনই নতুন বই আসছে না।
সম্প্রতি নবগঠিত সিলেবাস কমিটির প্রথম বৈঠকেই শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারিত হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন, উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, শিক্ষা দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী, শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার, কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় এবং সদস্য অরিন্দম ব্যানার্জী সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শীর্ষ শিক্ষা আধিকারিকগণ।
আরও পড়ুন:
বিতর্কিত ও রাজনীতি-প্রভাবিত পুরানো পাঠ্যক্রম ছেঁটে ফেলে এক সম্পূর্ণ নতুন, বিজ্ঞানমনস্ক ও ভীতিমুক্ত পাঠ্যসূচি উদ্ভাবন করা হচ্ছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং পড়ুয়াদের মূল্যায়ন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দফতর। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার ভিত মজবুত করতে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন-দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পুনরায় ‘পাশ-ফেল’ প্রথা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেমিস্টার পদ্ধতির সংযোজন: উচ্চমাধ্যমিকের মতো নিম্ন-মাধ্যমিক পর্যায় থেকেও সেমিস্টার ভিত্তিক পরীক্ষা চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে জাতীয় শিক্ষানীতির নির্দেশিকা মেনে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করছে বিশেষজ্ঞ কমিটি। ২০২৮ সাল থেকে শুরু হতে চলা এই নতুন পাঠ্যক্রম রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন ভোরের সূচনা করবে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও যুগোপযোগী সিলেবাসের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করছে শিক্ষা দফতরের আধিকারিকরা।