পুবের কলম ওয়েবডেস্ক :
নিউজ পোর্টাল বার এন্ড বেঞ্চ এ প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ১৪টি হাইকোর্টে সরাসরি আইনজীবী থেকে বিচারক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোন মুসলিম বিচারপতি নেই, যা উচ্চ বিচারালয়ে প্রতিনিধিত্বের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তুলে ধরেছে। তথ্যে প্রকাশ পেয়েছে যে দেশের ১৪টি হাইকোর্টে সরাসরি বার থেকে নিয়োগ পাওয়া ২৩২ জন বিচারকের মধ্যে একজনও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি নেই। এর মধ্যে দিল্লি এবং কলকাতা হাইকোর্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও বড় আদালতেও সরাসরি আইনজীবী কোটায় কোন মুসলিম বিচারপতি নেই।ইলাহাবাদ হাইকোর্টে বার থেকে নিযুক্ত ৭৭ জন বিচারপতির মধ্যে চারজন মুসলিম এবং বোম্বে হাইকোর্টে ৫৯ জনের মধ্যে তিনজন মুসলিম। কেরালা হাইকোর্টে বার থেকে নিযুক্ত ২৫ জন বিচারপতির মধ্যে তিনজন মুসলিম এবং মাদ্রাজ হাইকোর্টে ৪৩ জনের মধ্যে তিনজন মুসলিম রয়েছেন।
পাটনা হাইকোর্টে বার থেকে নিযুক্ত ৩১ জন বিচারপতির মধ্যে একজন মুসলিম বিচারপতি রয়েছেন; একইভাবে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে ২২ জনের মধ্যে একজন, রাজস্থান হাইকোর্টে ২৬ জনের মধ্যে একজন এবং গুয়াহাটি হাইকোর্টে ১৫ জনের মধ্যে একজন মুসলিম বিচারপতি আছেন। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ হাইকোর্টে—যেখানে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মুসলিম—সেখানেও বার থেকে নিযুক্ত ছয়জন বিচারপতির মধ্যে মাত্র দুজন মুসলিম।
উচ্চ আদালতের সিনিয়র বিচারপতি এবং কলেজিয়ামের সুপারিশক্রমেই মূলত এই নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, সুপারিশের সময় বিচারব্যবস্থায় সামাজিক বৈচিত্র্য ও প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি আরও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা উচিত। সাংবিধানিক আদালতে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এমন অনুপস্থিতি বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার ওপর প্রভাব ফেলে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।