পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: বাবার ঘরের লকার ভেঙে নগদ টাকা ও সোনার গয়না মিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চুরি করার অভিযোগে আসামের জোরহাটে গ্রেফতার করা হলো ২৫ বছরের এক যুবককে। ধৃত যুবকের নাম যশ ধানুকা আগরওয়াল। অভিযোগ, চুরি করা বিপুল পরিমাণ অর্থের বড় অংশই তিনি তাঁর বান্ধবীর পেছনে এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে খরচ করেছেন। গুজরাটের আহমেদাবাদ থেকে বাবাই ছেলেকে ফিরিয়ে এনে পুলিশের হাতে তুলে দেন।


পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১১ আগস্ট পরিবারের সদস্যরা যখন বাড়ির বাইরে ছিলেন, তখনই এই চুরির ঘটনা ঘটে। যশের বাবা ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসার জন্য বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সোনার গয়না লকারে রাখা ছিল। পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত থাকার সুবাদে টাকা ও গয়না রাখার বিষয়টি স্পষ্ট জানতেন যশ।
 
ঘটনার পর জোরহাট সদর থানার পুলিশ ও সাইবার সিকিউরিটি সেল যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ ছিল এটি কোনো ভেতরের মানুষের কাজ। ঘটনার পর থেকেই যশ জোরহাট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। সাইবার সেল তাঁর মোবাইল ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করে দেখতে পায় তিনি গুজরাটের আহমেদাবাদে রয়েছেন। পুুুলিশের তথ্যের ভিত্তিতে যশের বাবা নিজেই আহমেদাবাদে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে জোরহাটে নিয়ে আসেন এবং মঙ্গলবার পুলিশে সোপর্দ করেন।
 
 
জোরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হৃষীকেশ হাজারিকা জানান, মঙ্গলবার যশ আগরওয়ালকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাঁকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে পুলিশের কাছে ধরা পড়ার পর সাংবাদিকদের সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন যশ। তিনি দাবি করেন, জিতু সোমানি ও রোহিত প্রসাদ নামের দুই বন্ধু তাঁকে চুরির পরামর্শ ও রূপরেখা দিয়েছিল। তালা ভাঙার জন্য একজন চাবিওয়ালা বা লকমকারের সাহায্য নেওয়া হয়। চুরির টাকা দিয়ে পার্টি করা হয়। পূবালী দত্ত নামে এক বান্ধবীর পেছনে তিনি প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ করেন।