পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: ভয়াবহ নেপাল বন্যা পরিস্থিতির জেরে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ নেপাল। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ২৯০ জন ভারতীয় নাগরিকসহ নিখোঁজ রয়েছেন হাজারেরও বেশি মানুষ। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও ভারত, আমেরিকা বা ব্রিটেনের মতো দেশ থেকে পাঠানো উদ্ধারকারী দলের সাহায্য নিতে সরাসরি অস্বীকার করেছে নেপাল সরকার।

নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য যথেষ্ট সক্ষম।

তবে বিদেশি উদ্ধারকারীদের ফিরিয়ে দিলেও মানবিক সাহায্য বা ত্রাণসামগ্রী গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো আপত্তি জানায়নি কাঠমান্ডু। ইতিমধ্যে ভারত দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে ৪৭.৫ টন ত্রাণসামগ্রী নেপালে পাঠিয়েছে। কিন্তু এত বড় বিপর্যয়ের পরেও কেন বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান, এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে রয়েছে চিনের চাপ।

নেপাল বন্যা কবলিত রসুয়া জেলাটি তিব্বত সীমান্ত লাগোয়া হওয়ায় সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বেজিং চায় না ওই অঞ্চলে কোনো বিদেশি দল প্রবেশ করুক এবং তাদের সামরিক গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হোক। যদিও নেপালের বিদেশ মন্ত্রক এই দাবি মানতে নারাজ। এরই মধ্যে শুক্রবার তিব্বতে একটি হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই কারণে রসুয়া ও ধাদিং জেলায় হাই অ্যালার্ট জারি করে আপাতত সমস্ত উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভয়াবহ এই পরিস্থিতি থেকে এখন পর্যন্ত ৫০ জন বিদেশি নাগরিকসহ মোট ৭৯৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।