পুবের কলম, নয়াদিল্লি: পুবের কলম, নয়াদিল্লি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম ‘জ্যাভলিন’ কিনতে চলেছে ভারত। নয়াদিল্লি ও ওয়াশিংটনের দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও সুদৃঢ় করতে এটি একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। শুক্রবার ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন। ‘এক্স’-এ মার্কিন রাষ্ট্রদূত লেখেন, "বড় খবর!
যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত জ্যাভলিন অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে ভারত।" তাঁর কথায়, দুই দেশের মধ্যবর্তী কৌশলগত সম্পর্ক এখন সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছে। সার্জিও গর তাঁর বার্তায় ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত ‘শাংরি-লা ডায়ালগ’-এ মার্কিন যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথের মন্তব্যের বিষয়টি উল্লেখ করেন।আরও পড়ুন:
মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, এই প্রযুক্তি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং যৌথভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের পথ উন্মুক্ত করবে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ভারতের কাছে ৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলারের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছিল। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০টি জ্যাভলিন সিস্টেম এবং ২১৬টি এক্সক্যালিবার গাইডেড আর্টিলারি প্রজেক্টাইল অন্তর্ভুক্ত ছিল। ভারত ইতিমধ্যেই মার্কিন প্রযুক্তির এম৭৭৭ হাওইটজার কামানে এই এক্সক্যালিবার গোলা ব্যবহার করছে।কী এই ‘জ্যাভলিন’?
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, লকহিল মার্টিন এবং আরটিএক্স-এর যৌথ উদ্যোগে মার্কিন সেনা ও মেরিন কোরের জন্য নির্মিত জ্যাভলিন হলো কাঁধে রেখে উৎক্ষেপণযোগ্য একটি শক্তিশালী পোর্টেবল অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মিসাইল সিস্টেম। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে স্বয়ংক্রিয় গাইডেন্স মেকানিজম রয়েছে। একবার লক্ষ্যের উদ্দেশ্যে উৎক্ষেপণ করার পর এটি নিজে থেকেই লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করে ধাওয়া করতে পারে। ফলে সেনা সদস্যরা প্রতিপক্ষের পাল্টা আক্রমণের আগে নিরাপদে সরে যেতে পারেন বা নতুন মিসাইল রিলোড করার সুযোগ পান। জ্যাভলিনের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর ধনুকাকৃতির গতিপথ। উৎক্ষেপণের পর এটি উঁচুতে উঠে সরাসরি ট্যাঙ্কের ওপরের অংশে আঘাত হানে, যেখানে প্রতিরক্ষামূলক বর্ম সবচেয়ে দুর্বল থাকে।