পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: আসন্ন উৎসবের মরশুমে বাজারে চিনির জোগান স্বাভাবিক রাখতে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি রোধে কেন্দ্রের একাধিক পদক্ষেপের ফলে মিল পর্যায় বা এক্স-মিল চিনির দর প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। যার ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যে খুচরো বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও পাবলিক ডিস্ট্রিবিউশন মন্ত্রক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে চিনির দাম বেড়ে যাওয়ার পেছনে কোনো আসল ঘাটতি ছিল না, বরং এর পেছনে কাজ করেছে অসাধু মজুতদারি ও জল্পনা।

দেশব্যাপী সরেজমিনে চিনির মজুত যাচাই করে পর্যাপ্ত যোগানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে কেন্দ্র।
 
কেন্দ্রীয় সরকারের ফিজিক্যাল ভেরিফিকেশনে চিনি মিলগুলোর বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ধরা পড়েছে। সূত্রের খবর, একাধিক চিনি মিল সরকারের কাছে জমা দেওয়া মাসিক রিটার্নে যা মজুত দেখিয়েছিল, বাস্তবে তাদের কাছে তার চেয়ে অনেক বেশি চিনি মজুত রাখা ছিল। বরাদ্দকৃত মাসিক কোটার চেয়ে কম চিনি বাজারে বিক্রি করে কৃত্রিম ‘শর্ট সেলিং’ তৈরি করা হচ্ছিল, যাতে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও বাজারে কৃত্রিম টানাটানি তৈরি হয়।

 
কৃত্রিম সংকট রুখতে ও বাজারে সরবরাহ দ্রুত করতে সেপ্টেম্বর মাস থেকে বিদ্যমান মাসিক কোটা ব্যবস্থার পরিবর্তে পাক্ষিক (১৫ দিনের) চিনি বরাদ্দ ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মিলগুলোকে তাদের মোট পাক্ষিক বরাদ্দের অন্তত ৪০ শতাংশ প্রথম সপ্তাহে এবং অবশিষ্ট অংশ পরবর্তী সপ্তাহে বিক্রি করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। চিনি বিক্রির ৭ দিনের মধ্যে তা মিল থেকে ডিলারদের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দিতে হবে, যাতে অসাধু মজুত আটকানো যায়। বৃহৎ বা পাইকারি চিনি ব্যবহারকারীদের প্রাত্যহিক কার্যনির্বাহী চাহিদার অতিরিক্ত চিনি মজুত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।