কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন আর শুধু শহরকেন্দ্রিক প্রযুক্তি নয়, কৃষিক্ষেত্রেও এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ, ফসলের সময় নির্ধারণ, গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং খামার পরিচালনার মতো বিভিন্ন কাজে কৃষকেরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিচ্ছেন। সম্প্রতি নিজেদের ব্লগে এমনই দাবি করেছে গুগ্ল। সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কৃষকদের একাংশও এই প্রযুক্তির সুবিধা নিচ্ছেন।
আরও পড়ুন:
গুগ্লের ব্লগে পাভেল নামে এক কৃষকের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে।
২০১৪ সালে তাঁর খামারে ছিল ৩০টি গরু। প্রতিটি গরুর স্বাস্থ্য, দুধ উৎপাদন এবং অন্যান্য তথ্য পর্যবেক্ষণে তাঁকে প্রতিদিন তিন থেকে চার ঘণ্টা সময় দিতে হতো। এত সতর্কতার পরেও অনেক সময় গরুর অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতি আগেভাগে শনাক্ত করা সম্ভব হতো না।এই সমস্যা মোকাবিলায় পাভেল গুগ্লের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক জেমিনাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ‘ফার্ম ব্রেন’ নামে একটি ব্যবস্থা তৈরি করেন। এতে প্রতিটি গরুর স্বাস্থ্য, দুধ উৎপাদনসহ বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তিটি পশুগুলোর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন সম্পর্কে দ্রুত ধারণা দিতে সাহায্য করে। গুগ্লের দাবি, এর ফলে খামার পরিচালনা অনেক সহজ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পাভেলের খামারে গরুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬০।
আরও পড়ুন:
আবহাওয়াভিত্তিক কৃষি সিদ্ধান্ত গ্রহণেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ছে। ভারতের একাংশের কৃষক গুগ্লের ‘নিউরালজিসিএম’ প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়াসংক্রান্ত পূর্বাভাস পাচ্ছেন।
গুগ্লের দাবি, গত বছর প্রায় ৩৮ লক্ষ ভারতীয় কৃষক এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁরা ফসল রোপণ, বীজ বপন ও কাটার সময় নির্ধারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।আরও পড়ুন:
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়ার পরিবর্তন, মাটির অবস্থা, ফসলের বৃদ্ধি এবং গবাদি পশুর স্বাস্থ্য সম্পর্কে বিপুল পরিমাণ তথ্য দ্রুত বিশ্লেষণ করে কৃষকের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারে এই প্রযুক্তি। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রে ঝুঁকি ও অপচয় কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে।