পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক মাসে ৭৯ জন শিশুর মৃত্যু ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। এত অল্প সময়ে এত সংখ্যক শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবার সরাসরি তদন্তে নামল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। শিশুমৃত্যুর নেপথ্যে প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিক চিকিৎসক প্রলয় আচার্যের নেতৃত্বে তদন্তকারী দল মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছয়।
প্রথমে হাসপাতালের ‘মাতৃমা’ বিভাগ পরিদর্শন করেন তদন্তকারীরা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তারা।বৈঠক শেষে চিকিৎসক প্রলয় আচার্য জানান, এক মাসে ৭৯টি শিশুর মৃত্যু কোনও স্বাভাবিক বিষয় নয়। রাজ্য সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রাথমিকভাবে অপুষ্টি, জন্মের পর শ্বাসকষ্ট, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, অতিরিক্ত জন্ডিস এবং কম ওজন নিয়ে জন্মানোকে শিশুমৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, মৃত শিশুদের অধিকাংশকেই অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে অত্যন্ত সংকটজনক অবস্থায় মালদহ মেডিক্যালে রেফার করা হয়েছিল। তবে সেই যুক্তিতে তদন্ত থেমে থাকছে না। প্রতিটি মৃত শিশুর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি, মেডিক্যাল রিপোর্ট এবং হাসপাতালে ভর্তির সময়কার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে বিশেষজ্ঞ দল। তদন্তকারীদের মতে, নথিপত্রের বিশদ পর্যালোচনার পরই শিশুমৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে চিকিৎসাগত কারণের পাশাপাশি কোথাও কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তাও স্পষ্ট হবে।
অন্যদিকে, প্রতি মাসে এত শিশুর মৃত্যু নিয়ে মালদহ মেডিক্যালের এমএসভিপি প্রসেনজিৎ বর বলেন, ‘বেশিরভাগ রেফার করা শিশুকে এখানে আনা হয়। বাইরের রাজ্য, ভিন জেলা থেকে এখানে রেফার করা হয়। রেফারের ক্ষেত্রে অনেক ক্রিটিকাল কেস আসে। আমাদের তরফে সবরকম চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সবাইকে বাঁচানো যায় না।’