পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: "মনে হচ্ছিল এক দ্বিতীয় জন্ম। বেঁচে ফিরব, এমন আশা ৯০ শতাংশই ছেড়ে দিয়েছিলাম।" নেপালের প্রলয়ঙ্করী গ্লেসিয়ার ধস ও প্লাবনের মুখ থেকে অলৌকিকভাবে জীবন বাঁচিয়ে শুক্রবার চেন্নাই বিমানবন্দরে নেমে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন তামিলনাড়ুর পুণ্যার্থী বিজয়ভুবনেশ্বরী।নেপালে পুণ্যযাত্রায় যাওয়া তামিলনাড়ুর ২১ জন পুণ্যার্থীর একটি দল শুক্রবার অবশেষে চেন্নাই বিমানবন্দরে ফিরে এসেছেন। তবে স্বস্তির সংবাদের পাশাপাশি নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় বিমানবন্দরে বহু পরিবারের কান্নার রোল এবং ক্ষোভের দৃশ্য সামনে এসেছে।


 
ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিবরণ দিয়ে বিজয়ভুবনেশ্বরী জানান, তাঁদের তিনটি বাসের কনভয়ে যখন পাহাড়ি ঢল ও প্লাবন আছড়ে পড়ে, তখন বোমার বিস্ফোরণের মতো প্রচণ্ড আওয়াজ হয়েছিল। তাঁদের পেছনের ও সামনের দুটি বাসই তোড়ে ভেসে যায়। কোনোক্রমে বাসের ছাদে উঠে এবং পরে পাহাড়ে থাকা আর্মেড রিজার্ভ পুলিশের ক্যাম্পে আশ্রয় নিয়ে তাঁরা প্রাণ বাঁচান। "আমি শুধু আমার মেয়ের কথা ভাবছিলাম," বলেন তিনি। আরেক জ্যেষ্ঠ পুণ্যার্থী বল্লিনায়কী একে অলৌকিক আত্মরক্ষা বলে বর্ণনা করে বলেন, "মনে হচ্ছিল কংক্রিটের এক আগ্নেয়গিরি আমাদের গিলে খেতে আসছে।
" জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব উল্লেখ করে কৃপাধিরি নামে অপর এক পুণ্যার্থী ক্ষোভের সাথে জানান, "জলবায়ু পরিবর্তন বাস্তব সত্য। আর অন্যদের ভুলের মাশুল সবসময় গরিব মানুষকে দিতে হয়।"
 
তামিলনাড়ুর স্কুল শিক্ষামন্ত্রী রাজ মোহন জানিয়েছেন, রাজ্য থেকে প্রায় ৪০০ জন পুণ্যার্থী এই সময়ে নেপাল সফরে গিয়েছিলেন। যার মধ্যে ১৪০ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও অন্তত ৮০ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারপ্রাপ্তদের কাঠমান্ডু হয়ে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
পরিস্থিতি তদারকি করতে চারজন মন্ত্রীকে দিল্লিতে পাঠিয়েছে তামিলনাড়ু সরকার। তবে বিমানবন্দর চত্বরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের উৎকণ্ঠা কমেনি। নিখোঁজ বাবার জন্য বিমানবন্দরে আসা প্রবীণ নামে এক যুবক সরকারের সমন্বয়হীনতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কেন্দ্র বা রাজ্য কোনো পক্ষ থেকেই নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চূড়ান্ত ও যাচাইকৃত তালিকা দেওয়া হয়নি। চারিদিকে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। যারা ফিরেছেন তাঁদের জন্য আমরা খুশি, কিন্তু আমরা চাই আমাদের বাবাও দ্রুত ফিরে আসুক।"