পুবের কলম, কাঠমান্ডু: ভয়াবহ ভোটে কোশী নদীর প্রলয়ঙ্করী প্লাবনের পর উদ্ধার হওয়া শত শত মরদেহের ভিড়ে হিমশিম খাচ্ছে নেপাল প্রশাসন। পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাবে মৃতদেহে পচন ধরে জনস্বাস্থ্য চরম ঝুঁকির মুখে পড়ায় দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানে ২২৯টি অজ্ঞাত পরিচয় ও বেওয়ারিশ দেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নেপালের ‘ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি’র তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বানভাসি এলাকাগুলো থেকে মোট ৬২৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল চিতওয়ান জেলাতেই আনা হয়েছে সর্বোচ্চ ২৩৩টি দেহ।
 
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্টের প্রলয়ঙ্করী বন্যার পর থেকে চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোতে একের পর এক মৃতদেহ আসতে শুরু করায় পরিকাঠামোর ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।

চিতওয়ানের হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘমেয়াদে মাত্র ৩০টি মরদেহ সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। সাময়িকভাবে একটি পুরো বাড়িকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফ্রিজিং সেন্টারে রূপান্তর করা হলেও দ্রুত সেই স্থানও পূর্ণ হয়ে যায়। খোলা জায়গায় বা অস্থায়ী ব্যবস্থাপনায় রাখা গলিত মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করায় এলাকায় মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় লাল সতর্কতা জারি করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
 
এই পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে চিতওয়ান জেলা নিরাপত্তা কমিটি শনিবার জরুরি বৈঠকে বসে সমস্ত অজ্ঞাত পরিচয় ও দাবিহীন মরদেহ দ্রুত মাটির নিচে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। চিতওয়ান জেলা প্রশাসন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভরতপুর মহানগর কার্যালয়ের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত 'দেবঘাট' এলাকার একটি খোলা মাঠে শনিবার থেকেই এই সমাহিত করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।