পুবের কলম, নয়াদিল্লি: এসেল গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সুভাষ চন্দ্রের পেশ করা মাত্র ৬.৫ কোটি টাকার ঋণ পরিশোধের পরিকল্পনা মঞ্জুর করেছে ন্যাশনাল কোম্পানি ল ট্রাইব্যুনাল (এনসিএলটি)। ট্রাইব্যুনালের এই রায়ের বিরুদ্ধে এবার আইনি লড়াই জোরদার করতে ন্যাশনাল কোম্পানি ল অ্যাপেলেট ট্রাইব্যুনালে যাওয়ার ঘোষণা দিল ক্যানারা ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (ইউকে) এবং এলআইসি হাউজিং ফিন্যান্স। এইচডিএফসি ব্যাংকের পর আরও কয়েকটি শীর্ষ পাওনাদার সংস্থার এই সিদ্ধান্ত সুভাষ চন্দ্রের পার্সোনাল গ্যারান্টি বা ব্যক্তিগত গ্যারান্টি সংক্রান্ত আইনি জটিলতাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেল।
 
গত ২৫ আগস্ট এনসিএলটি সুভাষ চন্দ্রের প্রস্তাবিত পুনর্গঠন পরিকল্পনাটি অনুমোদন করে। এর আওতায় মোট ২২,০০৬.৫৭ কোটি টাকার স্বীকৃত দাবির বিপরীতে ক্রেডিটটরদের পরিশোধ করা হবে মাত্র ৬.২৫ কোটি টাকা এবং দেউলিয়া প্রক্রিয়ার খরচ বাবদ ২৫ লাখ টাকা দেওয়া হবে।

সূত্রের খবর, ক্যানারা ব্যাংক (যাদের ভোটিং শেয়ার ১.৬০%), ইউনিয়ন ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (ইউকে) এবং এলআইসি হাউজিং ফিন্যান্স শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বিপক্ষে ভোট দিয়েছিল। অন্যান্য আর্থিক পাওনাদারদের ৮০.৮১% ভোটিং শেয়ার পক্ষে থাকায় ট্রাইব্যুনালে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে এটি পাস হয়। ক্যানারা ব্যাংক ‘এক্স’ পোস্টে জানিয়েছে, তারা সুভাষ চন্দ্রের সম্পদের বিষয়ে একটি ফোরেনসিক অডিটের দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু তাদের ভোটিং শেয়ার কম থাকার কারণে সেই দাবি গ্রাহ্য করা হয়নি। এখন অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে এনসিএলএটি-তে আপিল করবে তারা।

 
ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনার মুখে বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সুভাষ চন্দ্র তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, "২২,০০০ কোটি টাকার যে অঙ্কের কথা বলা হচ্ছে, তা আমার ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া কোনো ঋণ নয়। এটি এসেল গ্রুপ-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার করপোরেট ঋণের বিপরীতে আমার দেওয়া 'ব্যক্তিগত গ্যারান্টি' থেকে উদ্ভূত দাবি।" তাঁর যুক্তি, এই পরিকল্পনার বিরোধিতাকারী ব্যাংকগুলোর প্রকৃত পাওনার পরিমাণ প্রায় ৩,৯৯২ কোটি টাকা, ২২,০০০ কোটি টাকা নয়। এসেল গ্রুপ পাওনাদারদের যাবতীয় বকেয়া দেনা মেটাতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও দাবি করেন তিনি।