পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসের জেরে তৈরি হওয়া ভয়াবহ হড়পা বানে মধ্য নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭২৪। বিপর্যয়ের পাঁচ দিন পরেও এখনও প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধারকাজ চলছে। বুধবারের এই ভয়াবহ জলচ্ছ্বাস, কাদা এবং ধ্বংসস্তূপের জেরে মধ্য নেপালের একাধিক শহর ও গ্রাম কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবং জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।

ন্যাশনাল ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (এনডিআরআরএমএ) জানিয়েছে, আটটি দুর্গত জেলা থেকেই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে সবথেকে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে চিতওয়ানে, সেখানে ২৫৯ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া পূর্ব নাওয়ালপরাসিতে ১৮৪, পশ্চিম নাওয়ালপরাসিতে ৮২, গোর্খায় ৫৮, নুওয়াকোটে ৫২, ধাদিংয়ে ৫০, তনহুতে ৩৬ এবং রাসুওয়ায় ১৩ জনের দেহ মিলেছে। নিখোঁজ ২,৪৯৮ জনের মধ্যে ৮৫ জন নিরাপত্তারক্ষী এবং ৩২০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত ২২৭ জন বিদেশি সহ মোট ৮,১৮৬ জনকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

আটকে পড়া ভারতীয়দের মধ্যে ১৪৩ জনেরও বেশি নাগরিক ইতিমধ্যেই ট্রেন ও বিমানে নিরাপদে দেশে ফিরেছেন এবং আরও অনেকের রবিবার পৌঁছানোর কথা। তবে মোট ৪০৪ জন ভারতীয় পর্যটক ও তীর্থযাত্রীর মধ্যে ৬০ জনের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে, তাঁদের মধ্যে ৩৭ জন শনিবার সন্ধ্যায় মুম্বই ফিরেছেন এবং রবিবার ভোরে ১০২ জনের নাগপুরে পৌঁছানোর কথা। এর আগে শনিবার চারজন নাগপুরে পৌঁছেছেন।

এদিকে, হিমবাহ ধসের ফলে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় ফের বন্যার আশঙ্কায় ব্যাহত হচ্ছে উদ্ধারকাজ।

জল ও কাদায় আটকে থাকা মৃতদেহগুলি এতটাই পচে গেছে যে শনাক্তকরণ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চিতওয়ান জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মৃতদেহগুলির মধ্যে সেখানে মাত্র চারজনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের পরিচয় জানতে ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

বিপর্যয় মোকাবিলায় নেপালের পাশে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বণ্টনে সহায়তার জন্য ব্রিটেন ৫০ লক্ষ পাউন্ড এবং আমেরিকা ৩৬ লক্ষ ডলার আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে। নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকদের পরিবারকে সাহায্য করতে ইতিমধ্যেই ব্রিটেনের একটি বিশেষ দল নেপালে পৌঁছেছে। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক রয়েছেন বলে জানা গেছে, যাঁদের মধ্যে দুই কিশোর-কিশোরী, একজন নার্স এবং একজন হিন্দু পুরোহিতও রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।