পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে ভেসে আসছিল এক মৃদু আওয়াজ। উদ্ধারকারীদের প্রথমে মনে হয়েছিল, হয়তো কোনও বিড়াল ডাকছে। সেই শব্দ লক্ষ করেই কাদামাটি সরাতে শুরু করেন তাঁরা। আর তাতেই ঘটে যায় এক অলৌকিক ঘটনা। কাদার নীচ থেকে উদ্ধার হয় পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যা।
নাম মণীষা। রাসুয়া জেলার স্যাপ্রুবেসীতে টানা দু’দিন ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকার পর গত শুক্রবার তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে নেপাল পুলিশের উদ্ধারকারী দল।আরও পড়ুন:
নেপাল পুলিশের আধিকারিক সঞ্জু খাতরি জানান, স্যাব্রুবেসীর কাছে ধ্বংসস্তূপের নীচে কেউ জীবিত আটকে রয়েছেন কি না, সেই খোঁজ চলছিল। তখনই ওই আওয়াজ পেয়ে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। প্রায় দু’ঘণ্টার চেষ্টায় অচৈতন্য অবস্থায় মণীষাকে কাদার তলা থেকে বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা।
দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য কপ্টার ডাকা হলেও আবহাওয়া খারাপ থাকায় তাকে আকাশপথে কাঠমান্ডু পাঠানো সম্ভব হয়নি।আরও পড়ুন:
প্রথমে উদ্ধারকারী দলের শিবিরে নিয়ে গিয়ে চোখেমুখে জল দেওয়ার কিছু ক্ষণ পর তার জ্ঞান ফেরে। পরে শনিবার বিকেলে তাকে কাঠমান্ডুর টিচিং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে সেখানকার শিশুবিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে মণীষা। স্বস্তির বিষয় হল, বিপর্যয় পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া ওই শিশুর বাবা-মাকেও এই হাসপাতালেই নিয়ে আসা হয়েছিল, ফলে হাসপাতালেই পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন হয়েছে ছোট্ট মণীষার।
আরও পড়ুন:
মণীষার মতো দু-একটি অলৌকিক উদ্ধারের ঘটনা ঘটলেও নেপালের সার্বিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ভয়াবহ। রবিবার বিকেল পর্যন্ত সে দেশে হড়পা বানের জেরে মোট ৭৮৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও খোঁজ মিলছে না ২৫০২ জনের। নিখোঁজদের সন্ধানে জোরকদমে তল্লাশি চলছে। এই বিপর্যয়ের পর বহু ভারতীয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ১৪৯ জন ভারতীয়কে সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বিপর্যস্ত নেপালের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বিভিন্ন সংস্থা ও সাধারণ মানুষের তরফ থেকে ত্রাণ এবং আর্থিক সাহায্য পাঠানো শুরু হয়েছে।