উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : স্কুল ও মন্দিরের এত কাছে কীভাবে মদের বার চালু হল—এই প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভে সামিল হলেন স্থানীয় মহিলারা। সরকারি নিয়মকানুন উপেক্ষা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার আশপাশে মদের বার চালু করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুর ২ নম্বর ব্লকের রায়দীঘি বিধানসভার দিঘীরপাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের চাপলারখোঁপ এলাকায়।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় চালু হয়েছে ‘সুমন রেস্টুরেন্ট কাম বার’। বার চালু হওয়ার পর থেকেই সন্ধ্যার পর এলাকায় অপরিচিত মানুষের আনাগোনা এবং মদ্যপদের উপস্থিতি বেড়েছে বলে অভিযোগতাঁদের। এর ফলে এলাকার পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে মদের দোকান বা বার চালুর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে।

কিন্তু চাপলারখোঁপ এলাকায় সেই নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বারটির প্রায় ৮০০ ফুটের মধ্যে রয়েছে ফেরিঘাট এসএসকে প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাত্র ২০০ থেকে ২৫০ ফুটের মধ্যে রয়েছেএকটি মন্দির।এছাড়াও প্রায় ৫০০ ফুটের মধ্যে রয়েছে দুটি কেজি স্কুল। পাশাপাশি প্রায় এক হাজার ফুটের মধ্যেই রয়েছে সুভাষনগর হাই স্কুল। এতগুলি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার কাছাকাছি কীভাবে একটি মদের বার চালুর অনুমোদন দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, বার চালু হওয়ার পর সন্ধ্যা নামলেই এলাকায় মদ্যপদের আনাগোনা বাড়ছে। রাস্তাঘাটের বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকছে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের গ্লাস ও মদের বোতল। এতে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাফেরাতে ও অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ।এমনকী, স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, রাতে বার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও মদের সন্ধানে কয়েকজন আশপাশের বাড়িতে গিয়ে দরজায় টোকা দিচ্ছেন এবং মদ পাওয়া যাবে কি না জানতে চাইছেন। এই ঘটনায় বিশেষ করে মহিলা ও প্রবীণ বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই আবগারি দপ্তর এবং প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
তবে অভিযোগ জানানোর পরেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। ফলে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ বাড়ছে।স্থানীয়দের বক্তব্য, কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা ধর্মীয় স্থাপনার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বার চালুর ক্ষেত্রে যদি বিধিনিষেধ থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুমোদন দেওয়ার আগে সেই দূরত্ব খতিয়ে দেখেছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন। আর যদি নিয়ম মেনে অনুমোদন দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরেজমিনে তদন্ত করা হোক।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, নিয়ম যদি থাকে, তাহলে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব কার? আর নিয়ম না মানার অভিযোগ ওঠার পরেও কেন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হচ্ছে না? দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।