পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের পঞ্চম দিনেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। সময় যত এগোচ্ছে, মৃত্যুর সংখ্যা ততই বাড়ছে। নেপাল সরকারের শেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ভয়ংকর বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ৭৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, এখনও খোঁজ মেলেনি প্রায় আড়াই হাজার মানুষের। পাশাপাশি তিব্বতেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার খবর মিলেছে।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারত সীমান্তবর্তী চিতওয়ান জেলা। শুধুমাত্র সেখানেই ২৩৩টি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে।

তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত নেপালে একসঙ্গে এত মৃতদেহ রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা ও পরিকাঠামো হাসপাতালগুলিতে নেই। ফলে দেহগুলিতে পচন ধরতে শুরু করেছে। যারফলে এলাকায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তার পর সংক্রমণ এড়াতে প্রশাসন অজ্ঞাতপরিচয় দেহগুলিকে কবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেপাল প্রশাসন। তবে ভবিষ্যতে পরিবারের মানুষজন যাতে তাঁদের পরিজনদের মৃতদেহ শনাক্ত করতে পারেন, তার জন্য অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে এই কাজ করা হচ্ছে।
কবর দেওয়ার আগে প্রতিটি মৃতদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যাচ্ছে, ১.৫ মিটার গভীর গর্ত খুঁড়ে দেহগুলি কবর দেওয়া হচ্ছে।
পরবর্তীতে সহজে তোলার সুবিধার্থে দুটি কবরের মাঝে ৪০ সেন্টিমিটারের ব্যবধান রাখা হচ্ছে। এছাড়া, প্রতিটি দেহের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট শনাক্তকরণ নম্বর যুক্ত করা থাকছে এবং জায়গাটিকে জিও-ট্যাগ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে স্বজনরা এলে তাঁদের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। সেক্ষেত্রে নমুনা মিলে গেলে ওই নির্দিষ্ট নম্বর ও জিও-ট্যাগ দেখে পুলিশ তাঁদের হাতে মৃতদেহ তুলে দেবে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, জল নামতে শুরু করায় গালছি-সহ বিভিন্ন এলাকার গৃহহীন মানুষজন নিজেদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভিটেমাটিতে ফিরতে শুরু করেছেন। নিজেদের চোখের সামনে বাড়িঘর ও শৈশবের স্মৃতি নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখেও নতুন করে বাঁচার লড়াই শুরু করেছেন নয়ন তেওয়ারি বা নিভি তেওয়ারির মতো পড়ুয়ারা। এদিকে, দেবীঘাটের ত্রাণ শিবিরগুলিতে আশ্রয় নেওয়া দুর্গতদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এরমধ্যেই কাঠমান্ডুর হাসপাতালে নিখোঁজদের খোঁজে ভিড় জমাচ্ছেন স্বজনরা। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন, বিহারের সমস্তিপুরের ৮ জন বাসিন্দা এবং ১০০ জনেরও বেশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কর্মী। তবে কেরালা থেকে যাওয়া একাধিক ভারতীয় পুণ্যার্থী বরাতজোরে এই ধ্বংসলীলার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এরইমধ্যে নতুন  করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এলাকায়।নেপালে যে ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে গিয়েছে সেই বিপদ এখনও সম্পূর্ণ কাটেনি। রবিবার ভোটেকোশী নদীতে নতুন করে জলস্তর বাড়তে শুরু করায় প্রশাসনের তরফে একাধিক জেলায় ফের বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়। নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পর নেপালকে নতুন করে গড়ে তুলতে আমেরিকা, ব্রিটেন, কানাডা-সহ রাষ্ট্রসংঘ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। ভারত ও চিনও উদ্ধারকাজে বিশেষ দল পাঠিয়ে সাহায্য করছে।