পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: চলতি মাসেই তারাপীঠ এবং নিউ মার্কেটের জোড়া অগ্নিকাণ্ডে মোট ১৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই জোড়া বিপর্যয়ের পরেও শহরের অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সোমবার সকালে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরের একটি খাবারের দোকানে আগুন লাগার ঘটনা সেই আতঙ্ককে আরও একবার উসকে দিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দমকল এবং রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের পালা শুরু হয়েছে।

আগুন লাগার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের তিনটি ইঞ্জিন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় আগুন নেভানোর কাজ। তবে দমকল আধিকারিকদের অভিযোগ, আগুন নেভানোর কাজে স্টেশন চত্বরের জলের পাইপলাইনগুলি থেকে এক ফোঁটাও জল পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে দমকলের নিজস্ব জল ব্যবহার করেই আগুন নেভাতে হয়, যার ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তাঁদের কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।

পাশাপাশি, ওই দোকানে আদৌ পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দমকল।

অন্যদিকে, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসেন শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা। তিনি দমকলের এই অভিযোগ প্রাথমিক ভাবে খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, গোটা বিষয়টি খতিয়ে না দেখে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, আগুন খুব একটা ভয়াবহ ছিল না, তবে ধোঁয়ার কারণে যাত্রীদের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আগুনের তীব্রতায় ওই খাবারের দোকানটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে এবং চিমনি ভেঙে পড়েছে। জানা গিয়েছে, গত বছরেও ঠিক একই দোকানে আগুন লেগেছিল। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ফের একই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে স্বাভাবিকভাবেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ডিআরএম জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ওই দোকান মালিকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ শর্ট সার্কিট, নাকি অন্য কিছু, তা খতিয়ে দেখছেন দমকল আধিকারিকরা।