পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর চার দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে আটকে থাকা বহু শ্রমিকের কোনও খোঁজ মেলেনি। রবিবার বিকেল পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নেপালে হড়পা বানের জেরে মোট ৭৮৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে ত্রিশূলী নদীর উপর থাকা বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিস্থিতি। সময় যত গড়াচ্ছে, তাঁদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই ক্ষীণ হচ্ছে।

রাসুয়া এবং নুয়াকোট জেলা দিয়ে বয়ে চলা ত্রিশূলী নদীর উপর মোট ন’টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প রয়েছে, যার মধ্যে পাঁচটি এখনও পুরোপুরি তৈরি হয়নি।

হড়পা বানের ফলে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথরের স্তূপ এই সুড়ঙ্গগুলির প্রবেশপথ পুরোপুরি ঢেকে দেয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হয়েছিল, সুড়ঙ্গগুলির ভিতরে প্রায় ৯০০ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন। উদ্ধারকারী দল এখনও পর্যন্ত সাড়ে তিনশোর সামান্য বেশি শ্রমিককে সুরক্ষিত অবস্থায় বের করে আনতে পারলেও, অন্তত ৫৩৭ জন শ্রমিকের এখনও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

নেপালের সেনা এবং অন্যান্য উদ্ধারকারী দলগুলি বৃহস্পতিবার থেকেই জোরকদমে তল্লাশি শুরু করেছে। কিন্তু কাদা এবং ধ্বংসস্তূপের পরিমাণ এতটাই বেশি যে থার্মাল ড্রোন ব্যবহার করেও আটকে পড়া মানুষদের সঠিক অবস্থান চিহ্নিত করা যাচ্ছে না।

উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে চরম প্রতিকূলতার মুখে পড়তে হচ্ছে সেনাকে।
নুয়াকোট জেলার আপার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। কাদার নীচে চাপা পড়ে থাকায় দীর্ঘ সময় সুড়ঙ্গের মুখই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ড্রিল মেশিন ও হাইড্রোলিক কাটার দিয়ে দীর্ঘ চেষ্টার পর রবিবার বিকেলে উদ্ধারকারীরা ঢোকার রাস্তা বের করেন।

 নেপাল সেনার মুখপাত্র রাজারাম বাসনেট জানান, মাটি খোঁড়ার পর সাত মিটার চওড়া একটি সুড়ঙ্গের খোঁজ মেলে, যার ভিতরে জলস্তর অনেকটাই বেড়ে ছিল।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের দফতর থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের ভিতরে ঢুকে ডাকাডাকি করলেও কোনও সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। ভিতরে ঠিক কত জন রয়েছেন তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। সেনার অনুমান সেখানে ৩৫ জন থাকতে পারেন, তবে পুলিশের মতে সংখ্যাটা প্রায় ২০০ হতে পারে। বর্তমানে সুড়ঙ্গের মুখ আরও চওড়া করার কাজ চলছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ আশঙ্কার কথা শোনা যাচ্ছে রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে। উদ্ধারকারীদের অনুমান, শুধুমাত্র এই প্রকল্পটির সুড়ঙ্গেই প্রায় ৩০০ জন শ্রমিক আটকে থাকতে পারেন। তাঁদের কাছে পৌঁছনোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।