বাড়ি তৈরির জন্য বরাদ্দ টাকার পাশাপাশি নির্মাণকাজের মজুরিও পেতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১৯ লক্ষ আবাস উপভোক্তা। ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের উপভোক্তাদের এককালীন ২৭ হাজার টাকা করে মজুরি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। তবে এই অর্থ দেওয়ার আগে কেন্দ্রের অনুমোদন প্রয়োজন। সেই অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্য।
আরও পড়ুন:
কেন্দ্রীয় সহায়তাপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বাড়ি তৈরির উপভোক্তাদের নির্দিষ্ট সংখ্যক দিনের মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আগে এই অর্থ মনরেগা বা ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প থেকে দেওয়া হতো।
গত ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে ১২৫ দিনের কাজের নতুন প্রকল্প চালু হয়েছে। সেখানে আবাস যোজনার উপভোক্তাদের প্রতিদিন ৩০০ টাকা হিসাবে ৯০ দিনের মজুরি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। দুর্গম এলাকায় ৯৫ দিনের মজুরি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে।আরও পড়ুন:
পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ বন্ধ থাকার কারণে রাজ্য সরকার নিজস্ব অর্থে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্প চালু করেছিল। প্রথম পর্যায়ে ১২ লক্ষ উপভোক্তাকে দু’টি কিস্তিতে মোট ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১৮ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪৬৭ জনকে প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা দেওয়ার পর সরকার বদল হয়।
পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার তাঁদের দ্বিতীয় কিস্তির ৬০ হাজার টাকাও মিটিয়ে দেয়। পাশাপাশি প্রকল্পটির নাম বদলে ‘পশ্চিমবঙ্গ আবাস’ করা হয়।আরও পড়ুন:
এবার দ্বিতীয় পর্যায়ের এই প্রায় ১৯ লক্ষ উপভোক্তার জন্য মজুরি বাবদ ২৭ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য। প্রত্যেকে যোগ্য বলে বিবেচিত হলে এই খাতে রাজ্যের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ৫,০৩৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। তবে প্রথম পর্যায়ের ১২ লক্ষ উপভোক্তা ইতিমধ্যেই বাড়ি তৈরির পুরো অর্থ পেয়ে যাওয়ায় তাঁদের এই সুবিধার আওতায় আনা সম্ভব হবে না বলেই প্রশাসনিক মহলের ধারণা।
আরও পড়ুন:
রাজ্যের বক্তব্য, দ্বিতীয় পর্যায়ের বহু উপভোক্তা সম্প্রতি দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেয়েছেন এবং তাঁদের অনেকেরই এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শেষ হয়নি।
ফলে প্রকল্পটিকে চলমান বা ‘অন গোয়িং স্কিম’ হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ রয়েছে। সেই কারণেই কেন্দ্রের কাছে মজুরি দেওয়ার অনুমতি চেয়েছে রাজ্য।আরও পড়ুন:
তবে এই সুবিধা পেতে উপভোক্তাদের জব কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। কারা মজুরি পাওয়ার যোগ্য, তা নির্ধারণের আগে জব কার্ড যাচাই করবে রাজ্য। এই যাচাই প্রক্রিয়া কীভাবে হবে, তা বিস্তারিত জানিয়ে সম্প্রতি কেন্দ্রকে চিঠিও দিয়েছে রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতর। এখন কেন্দ্রের সবুজ সংকেত মিললেই যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করে যোগ্য উপভোক্তাদের ২৭ হাজার টাকা করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ যোগ্য উপভোক্তারা বাড়ি তৈরির জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার পাশাপাশি আরও ২৭ হাজার টাকা মজুরি হিসেবে পেতে পারেন।