জন্মের মাত্র ১১০ দিনের মধ্যেই ভাঙনের মুখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা মণীশ ব্রহ্মভট্ট দল ছেড়ে পৃথক সংগঠন গড়ে তুলেছেন। তাঁর নতুন দলের নাম ‘সিজেপি-ডেমোক্র্যাটিক’। মণীশের সঙ্গে আরও বেশ কয়েক জন সদস্য মূল দল ছেড়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

গত ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে সিজেপির আত্মপ্রকাশ। পরবর্তী সময়ে ‘নিট’ প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে যন্তর মন্তরে আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার মতো ঘটনাকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরে দলটি। কিন্তু এর মধ্যেই দলের অন্দরে ফাটলের খবর সামনে এসেছে।

মণীশ ব্রহ্মভট্টের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠাতা দীপক অভিজিৎ দলের ভিতরে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখছেন না।

তাঁর দাবি, দীপক ধারাবাহিক ভাবে একনায়কতান্ত্রিক ভাবে দল পরিচালনা করছেন। একইসঙ্গে সিজেপির বিরুদ্ধে আম আদমি পার্টি বা আপকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, সর্বভারতীয় স্তরে ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির জন্য তৈরি কমিটিতেও আপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জায়গা দেওয়া হয়েছে। মণীশের কথায়, ‘‘এটা এখন টিম কেজরিওয়াল।
’’

যদিও যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন দীপক। মণীশ ব্রহ্মভট্টকে তিনি চেনেন না বলেও দাবি করেছেন। পাল্টা কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘মহেশ ভাট চলচ্চিত্র পরিচালক বলেই জানি।’’

সিজেপির অন্দরের এই সংঘাত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আপের সঙ্গে সিজেপির কোনও যোগ রয়েছে কি না, সেই প্রশ্ন যেমন উঠছে, তেমনই দলের ভাঙনের পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক শক্তির ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে আগামী বছর পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ভাঙন নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে অভিযোগগুলির স্বাধীন ভাবে কোনও প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।