উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায় : খাদ্যে কৃত্রিম রঙের ব্যবহার, খাবারের গুণগত মান, রান্নার জায়গার পরিচ্ছন্নতা এবং খাদ্য তৈরিতে সরকারি নিয়মকানুন মানা হচ্ছে কি না এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখতে জয়নগরে অভিযান চালালো প্রশাসন। শনিবার জয়নগর থানার অন্তর্গত জয়নগর মজিলপুর পৌরসভা এলাকার  মিষ্টির দোকান, বিরিয়ানির দোকান, হোটেল ও রেস্তরাঁয় এই অভিযান চালানো হয়।এদিনের অভিযানে সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে ছিলেন জয়নগর থানার আইসি অমিত হালদার-সহ পুলিশের একটি দল। সরকারি আধিকারিকরা জয়নগরের রামকৃষ্ণ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার, নিউ আরসালান বিরিয়ানি, আপ্যায়ন হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট-সহ একাধিক খাদ্য প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘক্ষণ ধরে তল্লাশি ও পরিদর্শন করেন।
অভিযান চলাকালীন দোকান ও রেস্তরাঁগুলিতে ঢুকে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষা করার পাশাপাশি যে জায়গায় খাবার তৈরি হচ্ছে, সেই রান্নাঘরের পরিবেশও খতিয়ে দেখা হয়।

খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রীরমেয়াদ, ব্যাচ নম্বর, ক্রয়ের বিল এবং অন্যান্য নথিপত্র পরীক্ষা করেন আধিকারিকরা। পাশাপাশি রান্নার জায়গায় পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি কতটা মেনে চলা হচ্ছে, তাও দেখা হয়।বিশেষ করে খাবারে কৃত্রিম রঙের ব্যবহার নিয়ে নজরদারি চালানো হয়। কোনও কোনও ক্ষেত্রে খাবারে রঙ কেন ব্যবহার করা হয়েছে এবং রান্নার জায়গা কেন অপরিচ্ছন্ন—তা নিয়েও দোকানদারদের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হয়। খাদ্যসামগ্রী তৈরি ও বিক্রির ক্ষেত্রে কী কী সরকারি নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক, সে বিষয়েও ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন আধিকারিকরা।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির খাদ্য দফতরের লাইসেন্স রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।এদিন বিভিন্ন দোকান ও রেস্তরাঁ থেকে খাবারের নমুনাও সংগ্রহ করেন সরকারিআধিকারিকরা। সেই নমুনা পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে বলে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়ম মেনে চলার জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।সরকারি আধিকারিকরা জানান,এই অভিযানের সময় খাবার কী পরিবেশে তৈরি হচ্ছে, রান্নার জায়গা কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, খাবারে কোনও নিষিদ্ধ বা অনুপযুক্ত রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় লাইসেন্স রয়েছে কি না—সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হয়েছে।
সংগৃহীত নমুনা ও অভিযানের রিপোর্ট বিভাগীয় দফতরে পাঠানো হবে। সেখান থেকে পরীক্ষার রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, শুধু জয়নগর নয়,রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের অভিযান চলছে।খাদ্য ব্যবসায়ীদের সরকারি নিয়ম ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার তৈরি এবং বিক্রি করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে।অন্যদিকে, প্রশাসনের এই অভিযানে এলাকায় খাদ্যের মান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে নজরদারি আরও জোরদার হবে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা।