পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক: রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং স্বচ্ছ নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। শনিবার নিউ টাউনের কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষা সম্মান’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে এ কথা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিক্ষক দিবসের এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, শুধু ভাষণ দেওয়া নয়, বরং কাজে করে দেখানোই তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। শিক্ষকদের বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত ইন্দু মলহোত্র কমিটির নির্দেশ মেনেই রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মী-সহ সমস্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মেটাতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন।
তাই এক দিনে পুরো টাকা দেওয়া সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে তা মিটিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।সম্প্রতি কলকাতা হাই কোর্ট আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে স্কুল শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্যকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি জানান, বিধানসভা নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ-র ব্যবধান ছিল ৪২ শতাংশ। ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের অনেকটাই ডিএ মিটিয়ে দিয়েছে, তবে শিক্ষকদের বিষয়টি এখনও বিচারাধীন। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে শিক্ষকদের অর্থনৈতিক সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে তিনি ঘোষণা করেন, আসন্ন পুজোর আগে রাজ্য সরকার যে আগাম বেতন দেবে, তার সঙ্গে ২০ শতাংশ ডিএ যুক্ত থাকবে।
এ দিনের অনুষ্ঠান থেকে বিগত তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, আগের সরকার অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছে এবং শিক্ষাব্যবস্থার চরম ক্ষতি করেছে। তবে এখন থেকে সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে সম্পূর্ণ আইনি পথে এবং স্বচ্ছ ভাবে শিক্ষক নিয়োগ হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি, শিক্ষকদের যাতে পড়ানোর বদলে মিড-ডে মিলের হিসাব নিয়ে ব্যস্ত থাকতে না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগের সরকারের গাফিলতির উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের এক পড়ুয়ার সাপের কামড় খাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি জানান, বিগত তিন বছর ধরে স্কুলগুলি সামান্য কম্পোজ়িট গ্র্যান্টও পায়নি, যে টাকা দিয়ে অন্তত স্কুল চত্বর পরিষ্কার রাখার জন্য ফিনাইল বা কার্বলিক অ্যাসিড কেনা যেত।