পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, দেশে ফেরার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু হাতে নেই পাসপোর্ট, ভিসা বা অন্য কোনও পরিচয়পত্র। শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের ‘পুশব্যাক’-এর খবর দেখে সেই পথই বেছে নিলেন এক ব্যক্তি। শুক্রবার বিকেলে মালদার হোল্ডিং সেন্টারে গিয়ে পুলিশের কাছে নিজেই জানালেন, ‘‘আমি বাংলাদেশি। আমাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান।’’ পরে ইংরেজবাজার থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির বয়স প্রায় ৪০ বছর।
তাঁর বাড়ি বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানা এলাকায়। শুক্রবার বিকেলে ইংরেজবাজারের চন্দনপার্ক সংলগ্ন হোল্ডিং সেন্টারে পৌঁছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নিজের দেশে ফেরানোর আর্জি জানান। আচমকা এমন ঘটনায় প্রথমে কিছুটা বিস্মিত হন পুলিশকর্মীরা। এমনকি তাঁর কথাবার্তা শুনে মানসিক ভারসাম্য নিয়েও সন্দেহ হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রের খবর। পরে অবশ্য তাঁকে ইংরেজবাজার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।আরও পড়ুন:
জেরায় ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়েই ভারতে এসেছিলেন।
কিন্তু পরে কোনও ভাবে সেই নথি হারিয়ে যায়। ফলে দেশে ফেরার উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সম্প্রতি বাংলাদেশি নাগরিকদের ধরে হোল্ডিং সেন্টারে রাখা এবং সীমান্ত দিয়ে ফেরত পাঠানোর খবর সংবাদমাধ্যমে দেখার পর তাঁর মাথায় এই পথের কথা আসে। এরপর খোঁজ নিয়ে মালদার হোল্ডিং সেন্টারে পৌঁছন তিনি।আরও পড়ুন:
ঘটনাটি ঘিরে এখন পুলিশেরও ধন্দ তৈরি হয়েছে। নথি না থাকায় ওই ব্যক্তির দাবি যাচাই করা যাচ্ছে না। সত্যিই যদি তিনি বৈধ ভিসা-পাসপোর্ট নিয়ে ভারতে এসে থাকেন, তা হলে তাঁকে সরাসরি অনুপ্রবেশকারী বলা যায় না।
আবার নিজের পরিচয় ও নথির পক্ষে কোনও কাগজ দেখাতে না পারায় তাঁর বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পুলিশ মনে করছে, তদন্তের সময়ে বিভ্রান্ত করার জন্য এমন দাবিও করে থাকতে পারেন তিনি।মালদায় হোল্ডিং সেন্টার চালু হওয়ার পর থেকে সেখানে বাংলাদেশি নাগরিকদের রাখার প্রক্রিয়া চলছে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরু থেকে ৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে মালদায় আনা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১১ জন মহিলা, তিন শিশু এবং ১৭ জন পুরুষ রয়েছেন। বৈধ নথি ছাড়া ভারতে থাকার অভিযোগে তাঁদের বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন এলাকা থেকে আটক করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারের ঘটনাটি আলাদা মাত্রা পেয়েছে। কারণ, অন্যদের মতো পুলিশি অভিযানে আটক না হয়ে দেশে ফেরার আর্জি জানিয়ে নিজেই থানায় হাজির হয়েছেন ওই ব্যক্তি। আপাতত তাঁকে ইংরেজবাজার থানায় রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।