ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর থেকে বিলবোর্ড অপসারণকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অশান্তির মামলায় মঙ্গলবার শেক্সপিয়র সরণি থানায় হাজিরা দিলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন দুপুর ১২টা ১৭ মিনিটে তিনি থানায় প্রবেশ করেন এবং দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা ধরে পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। থানা থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি অভিযোগ করেন যে, গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করার উদ্দেশ্যেই একটি সাধারণ বিলবোর্ড নামানোর জন্য হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, পুলিশের এই তৎপরতা যদি আগে থাকত, তবে নিউ মার্কেটের হোটেলে প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটত না।

সরকারি কাজে বাধা এবং মহিলা পুলিশকর্মীদের শ্লীলতাহানির যে অভিযোগ উঠেছে, তা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি উল্টে দাবি করেন যে, তাঁদের ১৩ জন কর্মীকে বেআইনিভাবে কোনো নোটিস ছাড়াই গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাঁদের সিঁড়ি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নামানো হয়েছে। এই ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তিনি জানান। তবে পুলিশকর্মীরা কেবল নিজেদের পেশাগত কর্তব্য পালন করছেন উল্লেখ করে তিনি সরাসরি তাঁদের দোষারোপ করতে চাননি।

এরপরই রাজ্য সরকার ও বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষের ভোটে জিতে ক্ষমতায় আসতে না পারায় তৃণমূলকে ভয় পাচ্ছে বিজেপি। আর সেই ভয় থেকেই মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁদের রাজনৈতিকভাবে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির পুরনো অভিযোগ এবং সারদাকর্তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টিও তিনি পুনরায় তুলে ধরেন। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে বেআইনি ও বিপজ্জনক বিলবোর্ড খোলাকে কেন্দ্র করে পুরকর্মী ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শেক্সপিয়র সরণি থানায় তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার সূত্র ধরেই অভিষেক, ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক নেতৃত্বকে তলব করেছিল পুলিশ।