পুবের কলম ওয়েবডেস্ক, মুম্বইয়ের নাগপাড়ার একটি স্থানীয় কোর্ট। বয়স তখন মাত্র ন’ বছর। সেখানেই বাস্কেটবলের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল এক কিশোরের। সেই শুরু। পরে তিনিই হয়ে উঠেছিলেন ভারতীয় বাস্কেটবলের অন্যতম পরিচিত মুখ গুলাম আব্বাস মুনতাসির। ১৯৪২ সালের ৭ জানুয়ারি মুম্বইয়ে জন্ম নেওয়া এই খেলোয়াড় মাত্র ১৬ বছর বয়সেই জাতীয় দলের দরজায় পৌঁছে যান।

প্রায় তিন দশকের খেলোয়াড়ি জীবনে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, এশিয়ার মঞ্চে খেলেছেন, পেয়েছেন অর্জুন পুরস্কার। নাগপাড়ার মাঠে শুরু হলেও তাঁর উত্থান ছিল দ্রুত। ১৯৫৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সের আগেই নাগপাড়ার ‘বি’ দলকে নিয়ে রাজ্য চ্যাম্পিয়নশিপে ‘এ’ দলকে হারিয়ে নজর কাড়েন আব্বাস। পরের বছর বম্বে রাজ্য দলে জায়গা পান এবং জাতীয় প্রতিযোগিতায় দলের নেতৃত্বও দেন। স্কুল ও কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বম্বে বিশ্ববিদ্যালয়, মহারাষ্ট্র এবং পরে রেলের হয়ে খেলেছেন।
১৯৬০ সালে মুম্বইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি প্রদর্শনী ম্যাচে ভারতীয় দলের হয়ে তাঁর আন্তর্জাতিক পথচলা শুরু।
১৯৬৪ সালের কলম্বো প্রতিযোগিতায় ভারতকে প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৬৯ ও ১৯৭৫ সালের এশিয়ান বাস্কেটবল চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতীয় দলের অধিনায়ক ছিলেন। ১৯৭০ সালের ব্যাংকক এশিয়ান গেমসেও খেলেন। সেই বছরই এশিয়ান অল-স্টার দলে জায়গা করে নেন এবং অর্জুন পুরস্কার পান।

তবে আব্বাসের পরিচয় শুধু কোর্টের পারফরম্যান্সে আটকে ছিল না। আগ্রাসী খেলা, নিখুঁত বল নিয়ন্ত্রণ এবং আত্মবিশ্বাসের পাশাপাশি ভারতীয় বাস্কেটবলকে আধুনিক করার পক্ষেও তিনি সরব ছিলেন।

বিদেশ সফরে গিয়ে উন্নত প্রশিক্ষণ, ফিটনেস ও খেলার কৌশল দেখে দেশে ফিরে পুরনো পদ্ধতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেছিলেন। সেই স্পষ্টবাদিতার মূল্যও দিতে হয়েছিল -তিন বছরের জন্য নির্বাসিত হয়েছিলেন। তবু খেলা ছাড়েননি। ১৯৮৬ সালে ৪৪ বছর বয়সে রেলের হয়ে ফেডারেশন কাপে জাতীয় স্তরের শেষ ম্যাচ খেলেন। অর্থাৎ ন’বছরে শুরু হওয়া সেই যাত্রা থামল চার দশক পেরিয়ে। পরে লিখেছেন Principles of Basketball, অভিনয়ও করেছেন কয়েকটি ছবিতে। ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর, ৮০ বছর বয়সে মুম্বইয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। আজকের ভারতীয় বাস্কেটবল যখন নতুন স্বপ্ন দেখছে, তখন আব্বাস মুনতাসিরের গল্প মনে করিয়ে দেয় যে সুযোগ সীমিত হতে পারে, কিন্তু স্বপ্নের পরিসর নয়।