পুবের কলম ওয়েব ডেস্ক:  বাঙালির দুর্গাপুজো মানেই আনন্দ আর কবজি ডুবিয়ে খাওয়া-দাওয়া। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের একটি বার্তার প্রেক্ষিতে পুজোমণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার বিক্রি ও খাওয়া নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারির জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। তবে নবান্ন সূত্রের খবর, রাজ্য সরকার পুজোয় সাধারণ মানুষের খাবারের মেনু নিয়ে কোনওরকম নিষেধাজ্ঞা জারি করতে চাইছে না। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট করে দিতে পারেন।


গত কয়েক দিন ধরে সমাজমাধ্যমের একটি অংশে প্রচার চলছিল যে, পুজোর দিনগুলিতে কী খাওয়া যাবে আর কী যাবে না, তা নিয়ে ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের তরফে তাদের নিজস্ব মতাদর্শের ভিত্তিতে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হলেও, রাজ্য সরকার আমজনতার খাদ্যাভ্যাসের উপর কোনও নির্দেশিকা চাপিয়ে দেওয়ার পক্ষপাতী নয়। ফলে নবমীতে পাঁঠার মাংস বা দশমীতে ইলিশ মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কোনও বাধাই থাকছে না। আগামী ৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রশাসন সূত্রে খবর, সেখানেই পুজো সংক্রান্ত যাবতীয় আলোচনার পাশাপাশি আমিষ বিতর্ক নিয়ে সরকারের চূড়ান্ত বার্তা দিয়ে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটাতে পারেন তিনি।
অন্যদিকে, আমিষ খাবার নিয়ে নির্দেশিকা জারির অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদও। সংগঠনের পূর্বাঞ্চলীয় শাখার সম্পাদক অমিয় সরকার রবিবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, গত ২৬ অগস্ট পুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে তাঁদের যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানে কেবল সাত্ত্বিক রীতিনীতি মেনে পুজো আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়। খাবার নিয়ে সেখানে কোনও কথাই হয়নি। সমাজমাধ্যমে এই বিষয়ে সম্পূর্ণ ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি আরও জানান যে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ কারও উপর কোনও নির্দেশিকা বা ফতোয়া জারি করে না।