পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার শীর্ষে থাকা ব্যক্তিদের প্রশ্ন করা বা তাঁদের সঙ্গে ভিন্ন মত পোষণ করা কোনো অপরাধ বা ঔদ্ধত্য নয়, বরং এটি একজন নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও দায়িত্ব। ভিন্ন মতামত বা প্রশ্ন তোলার কারণে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ বা হুমকির হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণরূপে অসাংবিধানিক ও ক্ষমতার অপব্যবহার। নয়াদিল্লির ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটি-র এলএলএম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে এই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া।

শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতা ও ভিন্ন মত পোষণের মৌলিক অধিকারের পক্ষে সওয়াল করে সুপ্রিম বিচারপতি বলেন, "আমাদের সংবিধান চিন্তার একমুখী নীতি বা অভিন্নতায় বিশ্বাস করে না।

এটি এমন একটি কাঠামো তৈরি করেছে, যেখানে ভিন্ন মতামত ও বিশ্বাসের মানুষ সমান মর্যাদার সাথে বাস করতে পারেন।" সমাবর্তন স্মারক বক্তৃতায় বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, "গণতন্ত্রে প্রশ্ন করার অধিকার কোনো ঔদ্ধত্য প্রকাশ নয়। এটি নাগরিকত্ব, স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক দায়িত্বের এক অপরিহার্য বহিপ্রকাশ। তাই শিক্ষার্থীরা যখন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে বা প্রশ্ন তোলে, তখন তাঁদের হুমকি দেওয়া যাবে না।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয় দেখানো অসাংবিধানিক এবং এটি পদ ও ক্ষমতার সরাসরি অপব্যবহার।"

প্রসঙ্গত, হায়দরাবাদের নালসার ল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের আগমন ও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। এর জেরে বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ২০২৬ সালের গ্র্যাজুয়েট ব্যাচের অন্তর্ভুক্তিকরণ সাময়িকভাবে স্থগিতের নির্দেশ দেয়। তীব্র সমালোচনার মুখে পরে সেই নির্দেশ তুলে নেওয়া হয় এবং সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটিতেও সিজেআই এবং বিসিআই চেয়ারম্যানের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষের কারণে শেষপর্যন্ত সমাবর্তন অনুষ্ঠানটিই বাতিল করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।